সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: জরুরি কাজে এখনি ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন, টাকা পাঠাও। আমার একটু অসুবিধা হয়েছে, একটি স্ক্যানার পাঠাচ্ছি তাতে ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিন। বুধবার রঘুনাথপুর বিধানসভার বিধায়ক মামণি বাউরির হোয়াটসঅ্যাপ থেকে দলীয় কর্মীদের কাছে টাকা চেয়ে এমনই একাধিক বার্তা যায়। হিন্দিতে লেখা বার্তায় টাকা চাওয়ার জন্য অনেকে হতবাক হয়ে যান। বিধায়ক কোনোদিন কারুর কাছে এভাবে টাকা চাননি। তাছাড়া তিনি হিন্দিতে কখনোই কাউকে বার্তা লেখেন না। হঠাৎ কি হয়েছে, যে টাকা চাইছেন? তাই বার্তা পাওয়ার পরেই সরাসরি অনেকেই বিধায়ককে ফোন করেন। আর তখনই বিধায়ক ফোন ঘাটতে গিয়ে দেখেন তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করছে না। এক মুহূর্ত বুঝতে দেরি হয়নি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়েছে। তাই সময় নষ্ট না করে এলাকার একটি স্কুলের অনুষ্ঠান মঞ্চ ছেড়ে তিনি সোজা নিতুড়িয়া থানায় যান। পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশের তরফ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যোগাযোগ করা হয় সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় হোয়াটসঅ্যাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। হাফ ছেড়ে বাঁচেন বিধায়ক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞ দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে রাজ্যের বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়কের পাশাপাশি পুরুলিয়ার কাশীপুর বিধানসভার বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়েছিল। একইভাবে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে প্রতারকরা নানান দাবি জানিয়ে টাকা চেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে বিহার রাজ্যের যোগসূত্র খুঁজে পায়। রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা চাওয়ার ঘটনায় ফালাকাটা থানার পুলিশ বিহারের শেখপুরা জেলা থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল। এবার একই কায়দায় রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামণি বাউরির হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হওয়ার অভিযোগে শোরগোল ছড়িয়েছে। এবারেও কি এই ঘটনায় বিহার গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিধায়ক নিতুড়িয়া ব্লকের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তখন এক কর্মী ফোন করে জানতে চান, ‘দিদি আপনার কি কোনো বিপদ হয়েছে’? বিধায়ক হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, কিছু হয়নি তো। কিন্তু তখনই হোয়াটসঅ্যাপে টাকা চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বিধায়ক ফোন খুলে দেখেন তার হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করছে না। তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্বামী ও এক কর্মীকে নিয়ে থানায় পৌঁছান।
মামণি দেবী বলেন, হিন্দি তো দূর, আমি এমনিতেই বাংলায় কাউকে হোয়াটসঅ্যাপে কোনো মেসেজ করি না। কখনও কারুর কাছে টাকা চাইনি। অথচ আমার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কর্মীদের কাছে টাকা চাওয়ার কথা জানতে পারি। তাঁরাই আমাকে জানায়। রীতিমতো স্ক্যানার পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছিল! ওই স্ক্যানারে আবার একটি সংখ্যালঘু যুবকের নাম আসছে। ঘটনার তদন্ত চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।