নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন জনশ্রুতিকে বুকে নিয়ে আজও জগৎবল্লভপুরের প্রত্যন্ত দক্ষিণ মানসিংহপুর গ্রামে রক্ষাকর্তা হিসাবে পূজিত হন রঘুনাথ জিউ। প্রায় তিন দশক পর সম্প্রতি গ্রামের প্রাচীন মন্দিরের সংস্কারকে ঘিরে এক অনন্য উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে এলাকায়। জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন উত্তরাখণ্ডের এক মহারাজের উপস্থিতিতে সংস্কার হওয়া মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম-যজ্ঞ, শোভাযাত্রা এবং অন্নকূট উৎসবের মধ্যে দিয়ে এখন ভক্তদের আনাগোনা বেড়েছে মানসিংহপুরে।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, এক সময় মানসিংহপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যেত গৌরী গাং নদী। নদী তীরবর্তী চাষের জমিতে হাল দেওয়ার সময় লাঙলের ফলায় উঠে আসে একটি ক্ষুদ্র শালগ্রাম শিলা। ছ’জন প্রবীণ গ্রামবাসী সেই শিলা উদ্ধার করে গ্রামে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় মান্না পরিবারের উদ্যোগে রঘুনাথ জিউর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে মন্দির নির্মাণ করা হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট সময় জানা না গেলেও স্থানীয়দের দাবি, এর ইতিহাস চার শতাব্দীরও বেশি পুরানো।
স্থানীয়দের কাছে রঘুনাথ জিউ শুধুই দেবতা নন, তিনি গ্রামের অভিভাবক ও রক্ষাকর্তা। তাঁদের বিশ্বাস, প্রভুর আশীর্বাদেই নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পায় গ্রাম। সেই কারণে বিয়ে, অন্নপ্রাশন সহ গ্রামবাসীদের যে কোনো শুভ কাজের আগে আজও রঘুনাথ জিউর কাছে পুজো নিবেদন করার প্রথা অটুট রয়েছে। মান্না পরিবারের কুলদেবতা হিসাবেও পূজিত হন তিনি।
প্রতিদিন নিত্যসেবার পাশাপাশি প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। তবে এবারের আয়োজন ছিল ব্যতিক্রমী। প্রায় ৩০ বছর পর মন্দির সংস্কারকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রাম একসূত্রে বাঁধা পড়ে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন। কয়েকদিন ধরে চলা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে গ্রামের ঘরে ঘরে এখন আত্মীয়-স্বজনের সমাগমে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। নিজস্ব চিত্র