Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহালয়ার আগে রেডিও সারাইয়ের ধুম

রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার জন্য বছরভর অপেক্ষায় থাকেন মানুষ। তাই মহালয়ার আগে পুরনো রেডিও সারাই করতে করিমপুরের বিভিন্ন মিস্ত্রির দোকানে ক্রেতা সমাগম হচ্ছে।

মহালয়ার আগে রেডিও সারাইয়ের ধুম
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার জন্য বছরভর অপেক্ষায় থাকেন মানুষ। তাই মহালয়ার আগে পুরনো রেডিও সারাই করতে করিমপুরের বিভিন্ন মিস্ত্রির দোকানে ক্রেতা সমাগম হচ্ছে। সারাবছর তেমন ক্রেতা না পেলেও এই সময়টার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন রেডিও মেরামতকারীরাও। তবে যত দিন যাচ্ছে, রেডিও সারাতে আসা মানুষের সংখ্যা কমছে বলে তাঁরা জানান।

Advertisement

করিমপুরের বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি পরিতোষ পাল বলেন, ১০দিন আগে থেকে করিমপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ বাড়ির পুরনো রেডিও সারাতে আসছেন। আগের তুলনায় এই কাজের চাপ অনেকটাই কমেছে। আগে প্রতিবছর এসময় প্রায় ৪০-৫০টি পুরনো রেডিও মেরামত করতাম। এবছর ১০টি রেডিও সারাই করেছি। মোবাইলের যুগে রেডিওর শ্রোতা কমেছে। তাই রেডিওর চাহিদাও আর নেই। আগামী দিনে রেডিওর ব্যবহার আর থাকবে না।
করিমপুর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী তথা রেডিও মেরামতকারী অমরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ৩৫বছর ধরে বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিক্রি করি। আগে দোকানে নতুন রেডিও বিক্রির পাশাপাশি পুরনো রেডিও মেরামত করা হতো। ১৫বছর আগেও মহালয়ার সময় দোকানে নতুন রেডিও কিনতে ক্রেতারা ভিড় করতেন। পুরনো রেডিও সারাতেও অনেকেই আসতেন। কিন্তু এখন সেসব দিন অতীত। এবছর মহালয়ার আগে আমার দোকানে হাতে গোনা কয়েকটি রেডিও বিক্রি ও সারানো হয়েছে।
শিকারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপক সাহা বলেন, ১৯৩১সাল থেকে মানুষ বেতারে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শুনে আসছেন। আমাদের ছেলেবেলায় একটি গ্রামে হয়তো কারও একটিমাত্র রেডিও ছিল। মহালয়ার ভোরে তাতে দেবীবন্দনা শোনার জন্য সবাই অপেক্ষা করতেন। এখন টিভি, মোবাইল কত কিছু এসে গিয়েছে। তবে মহালয়ায় ভোরের আলো ফোটার আগে রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘আশ্বিনের শারদ প্রাতে...’ শোনার মধ্যে যে অনন্য অনুভূতি রয়েছে, তা অন্য কিছুতে মেলে না।
কলেজছাত্রী সাইনী রায় বলেন, আমরাও অনেকে ছোটবেলা থেকে রেডিওতেই মহালয়া শুনে আসছি। মহালয়া শোনার জন্য ইউটিউবের তুলনায় এখনও রেডিওই অনেকের বেশি পছন্দ। তবে ছোটবেলায় ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে রেডিওতে দ্বিতীয়বার মহালয়া শোনার কোনও সুযোগ ছিল না। এখন সেই সমস্যা নেই।
গৃহবধূ রিক্তা চক্রবর্তী বলেন, এখন বর্ষার রাতে কিংবা শীতের দুপুরেও মন চাইলেই ইউটিউবে মহালয়া শোনা যায়। কিন্তু শরতের ভোরে রেডিওতে মহালয়া শোনায় যে আনন্দ আছে, তা ইউটিউবে পাওয়া যায় না। তাই ঘরে পড়ে থাকা পুরনো রেডিওটি সারানোর জন্য দোকানে নিয়ে এলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ