নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তৃণমূল বিধানসভা ভোটে জিতলে আমি দলের সঙ্গেই থাকতাম। বিজেপির চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে পাশে বসিয়ে দলবদল নিয়ে ওই মন্তব্য করেছেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সুবীরবাবুর ভারতমাতা পুজোর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অভিনেত্রী-সাংসদ রচনা। সেখানেই তিনি বলেন, দল-রাজনীতি বুঝি না। তৃণমূল-বিজেপি বুঝি না। আমি বুঝি, মানুষ আমাকে পাঁচ বছর কাজ করার জন্য ভোট দিয়েছেন। দু’বছর হয়েছে, আরও তিন বছর আমাকে কাজ করতে হবে। তাই এনডিএ’র সঙ্গী হয়েছি। বিজেপির বিধায়কদের সঙ্গে নিয়েই মানুষের জন্য কাজ করব। রাজনৈতিক মহল বলছে, রচনা রাজনীতিতে পাকাপোক্ত না হলেও তৃণমূল আমলের বুলি ভালো শিখেছেন। তৃণমূল আমলে কেউ দল বদল করলে তাঁরা প্রায় বলতেন, উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চাই।
বস্তুত রচনা তাঁর তৃণমূল ছাড়ার ঢাল হিসাবে শুধু তৃণমূলী বুলি ব্যবহার করেছেন তাই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, আমি যখন তৃণমূল সাংসদ হয়েছিলাম, তখন দিদি (মমতা) বলতেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার টাকা দেয় না। তাই বাংলায় কাজ করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। রচনার দাবি, মানুষের স্বার্থে অনেক কাজ করতে হবে। সেসব শুধুই সাংসদ কোটার টাকায় করা যায় না। তাই দলবদলের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার খুব দরকার ছিল। বাংলার বিশেষ করে হুগলির উন্নয়নের জন্য এখন ভালো করে কাজ করতে পারব। রচনা এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঢালাও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গত কয়েকমাসে যেটুকু দেখেছি, তাতে মুখ্যমন্ত্রী ভালোই কাজ করছেন। দৃষ্টান্তমূলক কাজ হয়েছে। এদিকে, রচনার বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের নেতা তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, উনি বড়ো লোভী, স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী। তাঁর এই মন্তব্যে সাধারণ মানুষের ঘৃণা আরও বাড়বে। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদ দলত্যাগ করেন। তাঁরা এনসিপিআই নামে কার্যত নামগোত্রহীন একটি সংগঠনে যোগ দেন। সেই দলে রচনাও রয়েছেন।