নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ নিয়েই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে দেখা গিয়েছিল উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু মাস গড়ানোর আগেই উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সোনালিদেবী। তাঁর এই সিদ্ধান্ত এতটাই আচমকা ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠরাও বিষয়টি টের পাননি। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ দিবস পালনের অংশ হিসাবে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ছিল। তবে এদিন তিনি ক্যাম্পাসে যাননি। তিনি চলে যান লোকভবনে রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবির কাছে। তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তাঁকে উপাচার্য করা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের তুমুল দরকষাকষি চলেছিল। রাজ্যপাল কোনোভাবেই সোনালিদেবীকে উপাচার্য করতে সম্মত ছিলেন না। রাজ্য সরকারও ছিল নাছোড়বান্দা। অবশেষে বিভিন্ন শর্তে দু’পক্ষ একটি রফায় আসতে সম্মত হয় বলে সূত্রের খবর। প্রথমে বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয় তাঁকে। পরবর্তীতে তাঁকে তাঁর পছন্দের রবীন্দ্রভারতীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১ আগস্ট তিনি রবীন্দ্রভারতীতে যোগ দেন। তার আগেই অবশ্য তাঁকে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজাম বোর্ডের চেয়ারম্যান করেছিল শিক্ষাদপ্তর। প্রাক্তন সরকারের ঘনিষ্ঠ আইএএস অফিসার, পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপদেষ্টা পদে যোগ দেওয়া আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালিদেবী পালাবদলের পর কী করেন, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল বিভিন্ন মহলে। অবশেষে তিনি যাবতীয় কৌতূহলের অবসান ঘটালেন! জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে বেশ কিছু সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন তিনি। তাতে হেরিটেজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আপত্তিও উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এই পদত্যাগের সঙ্গে সেই ব্যাপারটিও জড়িত কি না, জল্পনা তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে। এ ব্যাপারে অবশ্য সোনালিদেবীর কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।-ফাইল চিত্র