


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে রাস্তার পাশে থাকা বড় বড় গাছের গোড়া ঢেকে দেওয়া হচ্ছে কংক্রিটের আস্তরণে। গাছের নীচে একটুও মাটির অংশ ফাঁকা না রেখে দেদার বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে পেভার ব্লক। শহরের এই সৌন্দর্যায়ন গাছেদের ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে ‘সাইলেন্ট কিলার’। মাটি আঁকড়ে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে গাছগুলি। বুধবার হাওড়া পুরসভায় গাছ ভেঙে দুই কর্মীর মৃত্যুর পর শহরজুড়ে বড় বড় গাছের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরসভা। পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, হাওড়া শহরের ফুসফুস ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোড জুড়ে থাকা গাছগুলিও যে কোনও দিন ভেঙে পড়ে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
বুধবার সাতসকালে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের ঘরের সামনে থাকা একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে। গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয় দুই পুরকর্মীর। সবুজ সতেজ গাছটি আচমকা কেন ভেঙে পড়ল? অনেকের দাবি, পুরসভা চত্বরের গোটাটাই পিচের আস্তরণে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরসভার ভিতরে থাকা বড় বড় গাছগুলির গোড়াও পিচে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। মাটি আঁকড়ে রাখতে না পেরেই আচমকা ভেঙে পড়ে গাছটি। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘পুরসভার মূল বিল্ডিং, বরো অফিস, পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যে সব বড় গাছ রয়েছে, সেগুলির স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখতে ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় ডুমুরজলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডের দুপাশে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বড় গাছের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিন্তিত পরিবেশ কর্মীরা। অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সৌন্দর্যায়নের নামে ২০১৮-১৯ সালে গোটা রিং রোড পেভার ব্লক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। বহু পুরনো গাছের গোড়াও কংক্রিটের আস্তরণে ঢেকে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে গাছগুলি। গত কয়েক বছরে ১৫টি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। চলতি বছরেই রিং রোডে একটি গাছের বড় ডাল ভেঙে গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন চলার ক্ষমতা হারিয়েছেন। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘গাছের গোড়া কোনওভাবেই পিচ বা কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় না, এই সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ হাওড়া পুরসভা মানছে না। সৌন্দর্যায়নের নামে শহরের বড় গাছগুলিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
রিং রোডে গেলেই দেখা যায়, কোনও কোনও গাছের শিকড় পেভার ব্লক ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কোনও গাছের কাণ্ড অস্বাভাবিক ফুলে গিয়েছে। আবার বহু গাছ হেলে পড়েছে ইতিমধ্যেই। পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘বড় গাছের মূল শিকড় মাটির গভীরে গিয়ে খাদ্য রস সংগ্রহ করে। আবার মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে রাখে। গাছের গোড়া কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দিলে বৃষ্টির জল পর্যাপ্তভাবে মাটির নীচে পৌঁছতে পারে না। এতে যেমন মাটির স্বাভাবিক শক্তি হারাচ্ছে, পাশাপাশি শিকড়ের বিস্তার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভারসাম্য রাখতে না পেরে সবুজ-সতেজ অবস্থাতেই বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ছে।’ নিজস্ব চিত্র