সংবাদদাতা, বোলপুর: সামনেই পুজো। শহরজুড়ে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও চলছে আলোর কাজ। প্রতিমা তৈরিতেও ব্যস্ততা তুঙ্গে। এই আবহেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন শহরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত রবিবার শহরের রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন এক বিজেপির এক বুথ সভাপতি। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর সেই ঘটনার পর এখন বড় হয়ে উঠেছে শহরের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত বোলপুর-শান্তিনিকেতন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্বভারতীকে ঘিরে সারা বছর দেশ-বিদেশের পড়ুয়া ও পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বোলপুর পুরসভায় ২২টি ওয়ার্ড। শহরের কাছেই বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়। রয়েছে একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শহরের নিরাপত্তার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন নাগরিকদের একাংশ।
বোলপুরে অপরাধের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। শহর ও শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও নানা অপরাধচক্রের হদিশ মিলেছে। মাদক উদ্ধার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালানোর মতো ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে নাগরিকদের মধ্যে। শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা তথা প্রবীণ আশ্রমিক অনিল কোনার বলেন, বোলপুর শান্তিনিকেতনকে সারা বিশ্বের মানুষ চেনেন। এখানে শিক্ষা সংস্কৃতি আলাদা একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ শহরে যেন শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। বোলপুরের বাসিন্দা রাহুল ঘোষ বলেন, নতুন সরকার গঠন করেছে। শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুন্দর রাখা একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, এমন ঘটনা শেষ মনে হয় নকশাল পিরিয়ডের সময় দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনা কাম্য নয়। নতুন সরকার এসেছে, প্রশাসন অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। খাস বোলপুর শহরে এমন ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসন ও নতুন সরকারকেই বিঁধেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ। তিনি বলেন, বোলপুর আগে আমরা কখনও এরকম ঘটনা দেখিনি। এই সংস্কৃতি এখানে ছিল না। নতুন সরকারের আমদানি এই সংস্কৃতি। এই রাজ্যে এখন কেউই সুরক্ষিত নয়। অবিলম্বে এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সকলকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী বলেন, এটা বীরভূমের সংস্কৃতি নয়। কোনো মৃত্যু কাম্য নয় আমাদের কাছে। প্রশাসনকে শহরবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। পুজোর আগে তাই বোলপুর-শান্তিনিকেতনের নাগরিকদের একটাই দাবি শহরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকুক। পর্যটন ও সংস্কৃতির এই শহরে যাতে কোনোভাবেই অপরাধের আতঙ্ক জায়গা না করে নেয়, সেই ব্যবস্থাই এখন চাইছেন তাঁরা।