নয়াদিল্লি: আমেদাবাদ দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে বিমানের ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার আগে ওই সুইচ ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ) অবস্থায় চলে যায়। কিন্তু দুই পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁদের কেউ সুইচ বন্ধ করেননি। তাহলে কি সুইচেই যত গণ্ডগোল? আশ্চর্যের ব্যাপার বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। মার্কিন মুলুকে ৭ বছর আগে ২০১৮ সালে আমেরিকার ফেডারাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফএএ) দাবি করে, কিছু বোয়িং ৭৩৭ বিমানের লকিং ফিচার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ইন্সটল করা হয়েছে। উড়ানের ক্ষেত্রে যা মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। তবে বিষয়টা স্রেফ সতর্কবার্তা হিসেবেই সামনে এনেছিল এফএএ। এর ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। বোয়িং বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ অসুরক্ষিত বলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়নি। একইরকম পদ্ধতিতে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ব্যবহার হতে থাকে।
আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসতে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে মার্কিন সংস্থার সেই আশঙ্কা বা অভিযোগের প্রসঙ্গ।
এই ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ কী? বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে এই সুইচ। প্রয়োজনের ভিত্তিতে পাইলট এটি চালু বা বন্ধ করতে পারেন। কোনও কারণে মাঝআকাশে বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হলে, সেটিকে সক্রিয় করতে অনেকসময় ফুয়েল সুইচ ‘কাটঅফ’-এর পর ফের সেটিকে ‘রান’ করানো হয়। বিমান পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল করে কোনও পাইলট এই সুইচ চালু বা বন্ধ দেবেন, এমনটা হতে পারে না।
কোথায় থাকে এই সুইচগুলি? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানটিতে দু’টি জিই ইঞ্জিন ছিল। এর ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলি থ্রাস্ট লিভারের ঠিক নীচে থাকে। এগুলি চালু বা বন্ধ করতে হলে প্রথমে সুইচটি টানতে হবে। তারপর রান বা কাটঅফের দিকে ঠেলতে হবে। এখানে দু’টি মোডই থাকে। কাটঅফ ও রান। ফলে দুর্ঘটনাবশত ওই সুইচ চালু বা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা হতে পারে না। -ফাইল চিত্র