নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১১ বছরে দুষ্কর্মে হাতেখড়ি। যতদিন গিয়েছে, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা দুইই বদলেছে। কয়েক দশকে সে হয়ে উঠেছিল ‘চোরের রানি’। বারুইপুরের পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই সেই রাবিয়া এখন পুলিসের জালে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১১ বছরে দুষ্কর্মে হাতেখড়ি। যতদিন গিয়েছে, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা দুইই বদলেছে। কয়েক দশকে সে হয়ে উঠেছিল ‘চোরের রানি’। বারুইপুরের পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই সেই রাবিয়া এখন পুলিসের জালে।
অভিযোগ, ছোটবেলায় ট্রেনে পকেটমারি ও চুরি দিয়ে শুরু হয়েছিল কারবার। তারপর ব্লেড দিয়ে ব্যাগ কেটে টাকা সাফাই করার কাজে সিদ্ধহস্ত হয় সে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানার কাছে আতঙ্ক হয়ে ওঠেছিল মহিলা। গত কয়েক বছর ধরেই ওয়ান্টেড তালিকায় নাম উঠেছিল তার। অবশেষে অপরাধ করতে গিয়েই পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেল রাবিয়া বিবি নামে ওই কুখ্যাত দুষ্কৃতী। পাকড়াও করা হয়েছে তার এক সহযোগীকে। সোনারপুর পুলিশের সাফল্যে স্বস্তি পেয়েছে দুই ২৪ পরগনার পুলিশ কর্তারা।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রবীণ ব্যাঙ্ক গ্রাহকরা সফ্ট টার্গেট ছিল রাবিয়ার। নিজের একটি ছোট গ্যাং বানিয়েছিল সে। হয়ে ওঠেছিল চোরের গ্যাংয়ের রানি। তাতে যাদের নিয়োগ করা হয়েছে, সবাই মহিলা। ইন্টারভিউ দিয়েই নাকি দলে তাদের নিত রাবিয়া। বিষয়টি অবশ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কয়েক বছর আগে এক-দু’বার গ্রেপ্তারও হয়েছিল ওই মহিলা। পরে ছাড়া পেয়ে যায়। তারপর থেকে কোনও থানা তার নাগাল পায়নি।
কীভাবে অপারেশন চালাত রাবিয়া? জানা গিয়েছে, মাসের এক থেকে সাত তারিখের মধ্যেই বেশি অভিযান চালাত রাবিয়া ও তার গ্যাং। কারা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলছে, কখন বেরচ্ছে প্রভৃতি খবর দিত রাবিয়ার সহযোগীরা। সেই মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পিছু ধাওয়া করে সুযোগ বুঝে নিখুঁত হাতের কাজে ব্যাগ কেটে টাকা নিয়ে চম্পট দিত সে। ভিড় এলাকাতেও চলত এমন অপারেশন। মাস দুয়েক আগে এক মহিলার ব্যাগ কেটে এক লক্ষ টাকা চুরি হয়ে যায়। তিনি সোনারপুর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। পুলিস অপরাধের ধরন বুঝে অন্যান্য থানার সঙ্গে কথা বলে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানাতেও গত কয়েক মাসে ঠিক একই ধরনের তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তখনই সামনে আসে রাবিয়ার নাম। শুরু হয় ওই অপরাধীকে ধরার কৌশল। সূত্র মারফত দিন কয়েক আগে পুলিশের কাছে খবর আসে, রাবিয়া সোনারপুর কামালগাজি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কাছে ঘোরাঘুরি করছে। তখনই সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশকর্মী গিয়ে তাকে ধরে ফেলে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় মিতা পুরকাইত। পরে মহিলার চুরি যাওয়া টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা মনে করছে, রাবিয়ার গ্যাংয়ের বাকি সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজ শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঠিক কত মামলা রয়েছে, তা জানতে দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানা থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক কর্তা বলেন, সামনে পুজো। তার আগে রাবিয়া ধরা পড়ায় আমরা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।