নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু বছরের নির্দিষ্ট সময় নয়, এবার থেকে বছরভর রসগোল্লা, ল্যাংচা, সন্দেশ বা বিরিয়ানির গুণমান যাচাই করা হবে। মিষ্টিতে কোনো ভেজাল বা বিরিয়ানিতে রাসায়নিক মিশছে কি না কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে। তারজন্য বর্ধমান শহরেই তৈরি হচ্ছে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার খাবারের গুণমান এখানেই পরীক্ষা করা হবে। এতদিন খাবার কলকাতায় পাঠানো হত। রিপোর্ট আসত অনেক দেরিতে। এবার থেকে তা হবে না। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ল্যাবরেটরি তৈরির ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি জায়গাও দেখা হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মিষ্টি বা অন্য খাবার থেকে দুর্গন্ধ না বেরলে সেটি নষ্ট কি না বোঝা যায় না। ভেজাল মেশালেও তা মুখরোচক হয়। তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভেজাল ধরার উপায় ছিল না। বর্ধমানে ল্যাবরেটরি তৈরি হলে ভেজাল ধরা দ্রুত সম্ভব হবে। এবার থেকে সারা বছর ধরেই ফুড সেফটি দপ্তরের আধিকারিকরা অভিযান চালাবেন। হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলিতেও অভিযান চলবে। এছাড়া সবজিতে ক্ষতিকারক রং মিশিয়ে তা টাটকা দেখানো হচ্ছে কি না সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বলেন, আগে খাবারের মান যাচাই করা হত না। এখন আর সেই দিন নেই। লাগাতার অভিযান চলবে। খাবারের ভেজাল মিশিয়ে যারা ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, তাদের সাবধান হতে হবে। ক্ষতিকারক খাবার মেশালে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা হবে। প্রয়োজন পুলিশ কেস করে জেলে পাঠাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন চার দিন ধরে জেলাজুড়ে বিভিন্ন দোকানে অভিযান চলছে। বর্ধমান শহরের একটি নামী মিষ্টি দোকানের খাদ্য সামগ্রী দেখে আধিকারিকরা অবাক হয়ে গিয়েছেন। বিশেষ করে পনিরের মান ঠিক ছিল না। ওই প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। শক্তিগড়ের কয়েকটি দোকানে নিম্নমানের টোম্যাটো শস বিক্রি হচ্ছিল। সেগুলি কবে তৈরি হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে, সেসব কিছু বোতলে উল্লেখ ছিল না। আধিকারিকরা ওই সমস্ত শস বিক্রি করতে নিষেধ করেন। অনেক দোকানের রান্নাঘরের পরিবেশ ঠিক ছিল না। এছাড়া মিষ্টিতে অস্বাস্থ্যকর রং ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খাবারের মান পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট আসার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্ধমানে ল্যাবরেটরি তৈরি হলে ততদিন অবশ্য আধিকারিকদের অপেক্ষা করা হবে না। যেদিন খাবার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে সেদিনই রিপোর্ট জানা যাবে। আগামী আরও কয়েকটি জেলাতেও এধরনের ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনা সরকারের ছিল।