Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জুটমিল খুলে দেবেন, কোর্ট পেপারে লিখে দিন বিজেপি প্রার্থীরা! চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের

বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এক সময়ে রোজগারের প্রধান সূত্র ছিল জুটমিল। হাজার হাজার মানুষ এই মিলগুলিতে কর্মরত ছিল। ঘটা করে বিশ্বকর্মা পুজো হতো, কেনাকাটা হতো জোরকদমে। সেসব আজ অতীত।

জুটমিল খুলে দেবেন, কোর্ট পেপারে লিখে দিন বিজেপি প্রার্থীরা! চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এক সময়ে রোজগারের প্রধান সূত্র ছিল জুটমিল। হাজার হাজার মানুষ এই মিলগুলিতে কর্মরত ছিল। ঘটা করে বিশ্বকর্মা পুজো হতো, কেনাকাটা হতো জোরকদমে। সেসব আজ অতীত। গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার প্লাস্টিকের ব্যাগের বরাত বৃদ্ধি করে গিয়েছে। সমান হারে কমিয়েছে চটের ব্যাগ বা বস্তার বরাত। ফলে জুটমিলগুলি ধুঁকতে শুরু করে। বর্তমানে আটটি বড় জুটমিল বন্ধ। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কর্মহীন। বন্ধ জুটমিল আর কাজ হারানো মানুষগুলোই আবার এই বিধানসভা ভোটের মুখে এখানে অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অন্যতম প্রধান ইস্যু হলো বন্ধ জুটমিল।

Advertisement

জুটমিলগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ভোটের প্রচারে তৃণমূল সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে দায়ী করেছে। তৃণমূলের শ্রমিকনেতা তথা জগদ্দলের শাসকদলের প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার চায় চটশিল্প শেষ হয়ে যাক। প্লাস্টিক শিল্পের রমরমা হোক। কেন্দ্র জুট ব্যাগের বরাত কমিয়ে দেওয়ার জন্যই কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকরা। এজন্য পুরো দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার। তাই জুটমিল শ্রমিকদের কাছে আমাদের আহ্বান, যারা আপনাদের এই অবস্থার জন্য দায়ী, সেই কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালক বিজেপিকে একটিও ভোট নয়।
বিজেপি অবশ্য প্রচারে বেরিয়ে বলছে, ক্ষমতায় এলে এক-দেড় মাসের মধ্যেই জুটমিলগুলি খুলে দেওয়া হবে। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের হলে দ্রুত তার ফল পাবেন জুটমিল শ্রমিকরা। বারাকপুরের কৌস্তুভ বাগচি থেকে এই এলাকায় বিজেপির অন্য প্রার্থীরা প্রচারে তুলে ধরছেন এই জুটমিল খোলার প্রসঙ্গ। 
তৃণমূল অবশ্য বিজেপির দেওয়া এই বল সপাটে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছে। চটকল খোলার ইস্যুতে বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করছে তারা। জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থীরা বলছেন, ক্ষমতায় এলেই তাঁরা যে জুটমিল খুলে দেবেন, এই কথাটা কোর্ট পেপারে লিখে দিন বিজেপির প্রার্থীরা। তাহলে এই শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের কেউ আর ভোটে প্রার্থী হবেন না। বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিজেপির প্রার্থীদের। তিনি বলেছেন, মানুষকে ভাঁওতা দিতে এসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন গেরুয়াদলের প্রার্থীরা। জুটমিল খোলার কথা বিজেপি প্রার্থীদের কোর্ট পেপারে লিখে দিতে হবে। ওরাই তো কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় রয়েছে। তাহলে এতদিন মিলগুলি খুলল না কেন?ইস্যুটি নিয়ে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তা বলেন, জুটমিল শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন তো আমরা করেছি। সিং পরিবার তো জুটমিলের মালিক। ওঁরা শ্রমিকের কষ্ট বুঝবে কী করে? আর সিপিএম এই ইস্যুতে বিজেপি এবং তৃণমূল– দুই দলকেই আক্রমণ করছে। নোয়াপাড়ার সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রের বরাত কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের ঠিকাদারদের অত্যাচারের জন্যও জুটমিলগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জুটমিল শ্রমিকরা জানেন, বামপন্থী দলগুলিই আসলে তাঁদের সঙ্গে আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ