Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিঘার পর বিঘা জমি দখল করে নিজের নামে রেকর্ড পুষ্পার! নথি পেল পুলিশ

পুষ্পার নামে ২০০ বিঘা জমি দখলের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ডায়মন্ডহারবার পুলিশ। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? বিস্তারিত পড়ুন।

বিঘার পর বিঘা জমি দখল করে নিজের নামে রেকর্ড পুষ্পার! নথি পেল পুলিশ
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা:  আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ফলতার স্বঘোষিত পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গির। এবার তাঁর ও স্ত্রী রেজিনা বিবির নামে কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে খবর। রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা জমি জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ। ইতিমধ্যে ৬০টি জমির নথি হাতে এসেছে ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশের হাতে। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি করলেন অভিষেক-ঘনিষ্ট এই নেতা, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিশেষ টিম।

Advertisement

জাহাঙ্গির বলপূর্বক জমি দখল করেছেন। ফলতা থানায় এমনই লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা বিধান পারুই। সেখানে  জাহাঙ্গিরের নামে চারটি এবং স্ত্রী রেজিনাসহ পরিবারের অন্যদের নামে ৩৪টি জমির দলিলের নথি জমা দেন তিনি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১০০ বিঘা জমির রেকর্ড নিজেদের নামে করেছেন জাহাঙ্গির। সাধারণ মানুষের জমি দখলের সঙ্গে, বিএলএলআরও অফিসটিকে কব্জায় এনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও তিনি বদল করেছেন বলে অভিযোগ। 
তার ভিত্তিতে ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার তরফে আলাদা টিম গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। তারা জানতে পারে, এই জমি নিয়ে তৃণমূল জমানায় জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ হয়। কিন্তু দাবাং তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ তার তদন্ত করতে দেননি! যে-সমস্ত জমি নিয়ে অভিযোগ, তার নথি ভূমিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে অফিসারেরা জানতে পারছেন, এগুলির সবই স্থানীয় কৃষকদের জমি। বলপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ যা হয়েছে তার চাইতে বেশি জমিই জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন। সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ৬০টি জমির দলিল তাঁদের হাতে এসেছে। আরো নথি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই জমি টাকা দিয়ে কেনেননি পুষ্পা। পুরোটাই দখল করা। তবে জমির রেকর্ড বদলের ক্ষেত্রে বিএলএলআরওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কারণ তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।  
তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিএলএলআরও অফিস জাহাঙ্গিরের নির্দেশেই চলত। কোন কোন জমির নথি বদল করা হবে, সেই নির্দেশ আধিকারিকদের তিনিই দিতেন। সেইমতো  জমির জাল রেকর্ড তৈরি করতেন জাহাঙ্গির। তারপর সেই রেকর্ড আপলোড করে দেওয়া হত বিএলএলআরও অফিস থেকে। এর ফলে জমির পরচা বদলে গিয়েছে। এমনকি, জমির মিউটেশন পর্যন্ত বদল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। জমির মালিক জানতেই পারেননি মিউটেশনে তাঁর নাম নেই। এখনো পর্যন্ত ২০০ বিঘা জমির হাতবদল এভাবে হয়েছে বলে তথ্য এসেছে পুলিশের কাছে। এই বিপুল পরিমাণ জমির বাজার দর বহু কোটি টাকা! তবে এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার ডায়মন্ডহারবার আদালত অভিযুক্ত জাহাঙ্গির এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনাকে পুলিশ হেপাজতে পাঠিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ