সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: জেলা পরিষদে কাজের প্রস্তাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব কমছে সাধারণ সদস্যদের। প্রতিটি সদস্যের থেকে কাজের প্রস্তাব নেওয়ার পরিবর্তে বড়ো বড়ো কাজে গুরুত্ব দিতে চাইছে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। নতুন সরকারের আমলে জেলা পরিষদের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভাতে এমনই আভাস পাওয়া গিয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকারের আমলে গত ৩১ আগস্ট সাধারণ সভা বসে। সেখানে বিজেপির ৯ বিধায়কের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ তৃণমূল ও বিজেপি সদস্যদের অধিকাংশই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুরুলিয়া, মানবাজার এবং বলরামপুরের বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বলে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে। বৈঠকে হাজির জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নীলাঞ্জনা পট্টনায়ক বলেন, জেলা পরিষদের বিভিন্ন কাজের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলা পরিষদ এবার থেকে ছোট ছোট কাজের পরিবর্তে বড়ো বড়ো কাজ করবে। সদস্যদের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য অর্জুন মাহাতো বলেন, সদস্যের অধিকাংশই উপস্থিত ছিলেন। আগে জেলা পরিষদ এলাকার সমস্যাগুলির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হলে সেই মতো কাজ হতো। তবে এবার থেকে জেলা পরিষদ বড় কাজে গুরুত্ব দিতে চাইছে। বৈঠকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিধায়করা তেমনই বলেছেন। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বলেন, বিধায়কদের উপস্থিতি ভালো দিক অবশ্যই। জেলার উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আগে জেলা পরিষদে আসা ফান্ডকে জেলা পরিষদের ৪৩ আসনের এলাকাতেই ভাগ করে ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার মধ্যে কাজের প্রস্তাব সদস্যের থেকে নেওয়া হতো। কিন্তু এবার মুখে প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হলেও সব সাধারণ সদস্যের এলাকায় কাজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ ইতিমধ্যে আধিকারিকরা বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে কিছু কাজের প্রস্তাব নিয়েছেন। বড়ো বড়ো কাজ হলে জেলা পরিষদের সব এলাকায় কাজ হওয়া অসম্ভব। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের আর এক কর্মাধ্যক্ষ তথা সদস্য তৃণমূলত্যাগী সুমিতা সিং মল্ল বলেন, সব বিধায়ক এবং সাংসদ সভায় থাকলে আরও ভালো হতো। পুরুলিয়ার বিধায়ক যেমন হাতুয়াড়াতে কাজের কথা বলেছেন, তেমনই বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতো সবাইকে নিয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন। মানবাজারের বিধায়কও নিজের এলাকার উন্নয়নের কথা বলেছেন। প্রয়োজনে উন্নয়নের প্রস্তাবের বিষয়ে বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কয়েকজন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তবে জেলা পরিষদের থমকে থাকা কাজ আবার শুরু হবে বলে মনে হয়। বৈঠকের দিন থেকেই জেলা পরিষদের আধিকারিকরাও বেশ তৎপর ছিলেন। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য সমীর বাউরি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।