সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: একজনও সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় ভেস্তে গেল জেলা পরিষদের আস্থা ভোট। নিবেদিতা মাহাতোই রইলেন সভাধিপতি। বিজেপির নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই এদিনের তলবি সভায় অনাস্থা আনা সদস্যরা উপস্থিত হননি। তবে আজ, বৃহস্পতিবার সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ফের আস্থা ভোট হওয়ার কথা। সেখানে সব সদস্যই হাজির থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সুজয়বাবু নিজে তলবি সভাতে উপস্থিত থাকেন কি না, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার পাশাপাশি তলবি সভার সমস্তরকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল জেলা পরিষদের সভাকক্ষে। দুপুর ১২টা থেকে একঘণ্টা সেখানে অতিরিক্ত জেলাশাসক সহ অনান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ৪৪ জন সদস্যের মধ্যে একজনও উপস্থিত হননি। সভাধিপতি নিজেও যাননি। তিনি অফিসেও ছিলেন না। তলবি সভার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রথমে দুপুর একটার পর এ বিষয়ে জানানো হবে বলে বললেও পরে আর কোনো কথা বলতে চাননি। সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, যারা অনাস্থা এনেছিলেন, তাঁরা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার মনে হয়, যাঁরা আমার প্রতি অনাস্থা দেখিয়েছিলেন, আমার ওপর তাঁদের আস্থা ফিরে এসেছে। সহ সভাধিপতির অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন কি না জানতে চাইলে নিবেদিতা বলেন, আগামীকালের বিষয় আগামীকাল জানতে পারবেন। আগাম কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুমিতা সিং মল্ল বলেন, এদিন না যাওয়ার বিষয়ে সদস্যরা আগেই ঠিক করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবারের তলবি সভাতে উপস্থিত থাকব। ভোটাভুটিও হবে। বলরামপুরের আর এক তৃণমূল সদস্য গৌতম মাহাতো বলেন, এদিন চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বৃহস্পতিবার সহ সভাধিপতির অনাস্থা প্রস্তাবে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মোট ৪৫ আসন। তারমধ্যে তৃণমূল ৪৩টি এবং বিজেপি ২টি আসনে জিতেছিল। পরে তৃণমূলের একজন সদস্য প্রয়াত হন এবং একজন সদস্য ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তৃণমূলের ৪১ জন এবং বিজেপির তিনজন সদস্য রয়েছেন।