


ভুবনেশ্বর ও নয়াদিল্লি: দিল্লি এইমসের নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। জীবনযুদ্ধে হার মানল ওড়িশায় অগ্নিদগ্ধ কিশোরী। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, গায়ে জ্বালানি ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল তিন ব্যক্তি। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিস। পুরীর ওই ঘটনায় দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু, তরুণীর মৃত্যুর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই নয়া মোড় নিল তদন্ত প্রক্রিয়া। পুলিসের দাবি, ওই কিশোরী নিজেই গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। একইসঙ্গে মৃতার বাবারও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে তিনিও বলেছেন, মানসিক অবসাদের কারণেই আত্মহত্যা করেছে তাঁর মেয়ে।
১৯ জুলাই অগ্নিদগ্ধ ওই কিশোরীকে দিল্লি এইমসে নিয়ে আসা হয়। শনিবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি জানান, চিকিৎসকদের সমস্ত রকম চেষ্টার পরও মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপরই রাজ্য পুলিস বিবৃতি দিয়ে জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অগ্নি সংযোগের ঘটনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিল না। বিবৃতিতে এই ঘটনায় কোনও রকম অসংবেদনশীল মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আর্জি জানানো হয়েছে।
যদিও তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিস জানিয়েছিল, তিন ব্যক্তি বাইকে করে এসে জোর করে কিশোরীকে নদীর ধারে নিয়ে যায়। এরপরই তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিন ঠিক উল্টো কথা বলেছে রাজ্য পুলিস। এরপরই মৃতার বাবা ভিডিওটি সামনে আসে। সেখানে তিনি বলেন, আমি মেয়েকে হারিয়েছি। মানসিক অবসাদের কারণেই ও জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার মেয়ে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা ভোগ করেছে। ওড়িশা সরকার আমার ও আমার পরিবারের জন্য অনেক করেছে। আমি সকলকে অনুরোধ করছি দয়া করে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করবেন না। উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই পুরীর বলাঙ্গা এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হয় ওই ১৫ বছরের ওই কিশোরী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, তিন ব্যক্তি মেয়েটির আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পুলিস বলছে. এই ঘটনায় অন্য কারও যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তারপর মৃতার বাবার বক্তব্য। সবমিলিয়ে পুরো ঘটনায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এতদিন কোনও কিছু বলেননি কেন মৃতার বাবা? কিশোরীর মা ঘটনার পর পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাহলে কি এখন কোনও চাপ কাজ করছে?