নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করে চূড়ান্ত পর্যায়ের এনকোয়ারির ভিত্তিতে তালিকা তৈরি হবে। সেই তালিকা ধরেই আগস্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হবে বলে রাজ্য নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরে ১৩লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাড়ে পাঁচলক্ষ আবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি হয়েছে। ফলে জুলাই মাসে জেলায় ৯লক্ষ ৬৬হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও আগস্টে সেই সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশন করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ গড়িয়ে যাবে। তার আগে সমস্ত আবেদনকারী কিংবা জুলাই মাসে সুবিধা পাওয়া সবার অ্যাকাউন্টে টাকা নাও ঢুকতে পারে। ভেরিফিকেশনের পর যাঁদের নাম অন্নপূর্ণা যোজনার চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকায় উঠবে, তাঁরাই আগস্টে টাকা পাবেন। সোমবার পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সেই সংখ্যাটা সাড়ে পাঁচ লক্ষ।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অন্য জেলার মতো পূর্ব মেদিনীপুরেও মহিলাদের একটা বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই যোজনায় আবেদন করেও টাকা পাচ্ছেন না। অথচ, তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। ২৩জুলাই পটাশপুর-২ব্লকের সাউথখণ্ড পঞ্চায়েতে এনিয়ে মহিলারা বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন।
রবিবার ময়না ব্লকের গড়সাফাৎ থেকে নারকেলদা পর্যন্ত পাকা রাস্তার কাজের সূচনায় স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্ডা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মহিলাদের অনেকেই আবেদন করেও টাকা না পাওয়ার কথা তাঁকে জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তাঁরা পাবেন। আমি কথা দিচ্ছি। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।’ ৩ জুন পূর্ব মেদিনীপুরে ২লক্ষ ৬হাজার মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হয়। তারপর ১জুলাই জেলায় ৯লক্ষ ৬৬হাজার মহিলাকে ওই প্রকল্পে টাকা দেওয়া হয়। আবেদনপত্র প্রাথমিক এনকোয়ারির পর জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের ভিত্তিতেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকার জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিল, আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে ওই স্কিমের শর্ত পূরণ হচ্ছে কিনা-তা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত লিস্ট তৈরি করতে হবে। তার ভিত্তিতেই আগস্ট থেকে টাকা দেওয়া হবে। সেইমতো জেলায় বাড়ি বাড়ি চেকিং শুরু হয়েছে। এখনও অবধি প্রায় ১৩লক্ষ ১০হাজার আবেদন জমা পড়েছে। সোমবার পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লক্ষ উপভোক্তার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়েছে। আগস্টে সেই তালিকা ধরেই টাকা দেওয়া হবে। এই জেলায় পুরো ১৩লক্ষ বাড়ি ঘুরে এনকোয়ারি শেষ করতে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ লাগবে। তার আগে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কতজনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে সেটাই এখন দেখার বিষয়।