জয়পুর: জিতলেই প্রথম দুই দলের মধ্যে থাকার হাতছানি। প্লে-অফ নিশ্চিত হলেও সেজন্যই বাড়তি তাগিদ সঙ্গী হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও পাঞ্জাব কিংসের। কার্যত এই মোকাবিলা উভয় দলের কাছেই ‘মাস্ট উইন’গোত্রের। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮৪। সূর্যকুমার যাদব ৩৯ বলে করেন ৫৭ রান। ১৪৬.১৫ স্ট্রাইক রেটে ‘স্কাই’ মারেন ছয়টি বাউন্ডারি ও দুটো ছক্কা। শচীনকে টপকে একটি আইপিএলে তিনিই মুম্বইয়ের সর্বাধিক স্কোরার। কিন্তু এরপরেও শেষরক্ষা হয়নি। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব (১৮৭/৩)। একইসঙ্গে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে শ্রেয়স আয়ার ব্রিগেড। সূর্যের মঞ্চে নায়ক জশ ইংলিস। চলতি টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ইনিংস খেললেন অজি ক্রিকেটার। মাত্র ৪২ বলে ৭৩ রানের ইনিংসে ন’টি চার ও তিনটি ছক্কা। অন্যদিকে ২৬ রানে অপরাজিত রইলেন শ্রেয়স। মুম্বইকে বশ মানিয়ে প্রথম দুইয়ে নিশ্চিত পাঞ্জাব কিংস।
সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামের পিচে বল পড়ে দেরিতে আসছে। ফলে শট নেওয়া সহজ ছিল না। বিরতিতে সূর্যকুমার তো বলেই দিলেন, ‘উইকেটে একটু চ্যালেঞ্জিং। পেসারদের ক্ষেত্রে আঠালো ভাব থাকছে পিচে। স্পিনারদের বল অবশ্য ঠিকঠাক আসছে। হার্দিক পান্ডিয়া ও নমন ধীর যেভাবে খেলছিল, তাতে আরও ১০-১৫ রান উঠতে পারত।’ মুম্বই ইনিংসের শেষ বলে এলবিডব্লু হন তিনি। আর সূর্য পুরো কুড়ি ওভার খেললে কী হয়, তার সাক্ষী থাকল জয়পুর। প্রথম দশ ওভারের পর মুম্বইয়ের স্কোর ছিল ৮৩-২। পরের দশ ওভারে উঠল ১০১ রান। ১৯তম ওভারে বিজয়কুমার বিশাক দেন ২৩ রান। ২০তম ওভারে অর্শদীপ সিংয়ের ক্রমাগত ইয়র্কার অবশ্য দুশোর গণ্ডি টপকাতে দেয়নি মুম্বইকে।
তিন নম্বরে নামা সূর্যর পঞ্চাশ আসে ৩৪ বলে। চলতি আসরে ৬৪০ রান হয়ে গেল তাঁর। অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে সাই সুদর্শন (৬৭৯) ও শুভমান গিলের (৬৪৯) পরই তিনি। রোহিত শর্মা অবশ্য বড় ইনিংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েও ফিরলেন তাড়াতাড়ি। ২১ বলে তাঁর সংগ্রহ ২৪। রায়ান রিকলটন (২৭), উইল জ্যাকস (১৭), ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়া (২৬), নমন ধীরও (২০)— অবদান রাখেন সকলেই। তবে স্লগ ওভারে হার্দিক ও নমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিলক ভার্মা (১) অবশ্য ফের ব্যর্থ হলেন।