মুল্লানপুর: গত ১৭ বছরে পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের প্রাপ্তি শুধুই হতাশা। তবে এবার চাকা ঘোরার ইঙ্গিত স্পষ্ট। অন্তত গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সে তেমনটাই প্রতিফলিত হচ্ছে। ১৪ ম্যাচে দুই দলের ঝুলিতে ১৯ পয়েন্ট। নেট রান রেটে পাঞ্জাব এগিয়ে থাকায় শেষ করেছে শীর্ষস্থানে। আর দ্বিতীয় স্থানে বেঙ্গালুরু। আইপিএলের নিয়মে দুই দল বৃহস্পতিবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি। জিতলেই ফাইনালের টিকিট পাকা। হারলেও সুযোগ থাকবে এলিমিনেটরের ম্যাচ খেলে খেতাবি লড়াইয়ে পৌঁছানোর।
এই ম্যাচে আকর্ষণের কেন্দ্রে দুই তারকা। আরসিবি’র বিরাট কোহলি ও পাঞ্জাবের শ্রেয়স আয়ার। দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে বহু সাফল্য পেয়েছেন ভিকে। কিন্তু অধরা আইপিএল ট্রফি। এবার আক্ষেপ মেটাতে তিনি বদ্ধপরিকর। দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন কোহলি। গত ম্যাচেও ঝলসে উঠেছিল তাঁর ব্যাট। বড় মঞ্চের নায়ক। তাই পাঞ্জাবের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ কোহলিই। একইভাবে শ্রেয়স আয়ারও খেতাব জিততে মরিয়া। যেটা হবে তাঁর কাছে সঞ্জীবনী সুধা। গত মরশুমে কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করেও উপেক্ষার যন্ত্রণা, ইংল্যান্ড সফরের ভারতীয় দলে ব্রাত্য থাকা— অনেক কিছুরই জবাব দেওয়া বাকি শ্রেয়সের। তাই পাঞ্জাবকে প্রথম ট্রফি জিতিয়ে নজির গড়তে মরিয়া মুম্বইকর।
শক্তির নিরিখে দুই দলের মধ্যে ফারাক খুবই কম। তবে পাঞ্জাব গত ম্যাচে মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রীতিমতো দাঁড় করিয়ে হারিয়েছিল। সেই সাফল্য ক্রিকেটারদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়েছে। ওপেনিং জুটিতে প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরন সিং দ্রুত গতিতে রান যোগ করেন। তার ফলে চাপে পড়ে যায় বিপক্ষ শিবির। তাঁরা ব্যর্থ হলেও জস ইংলিশ, শ্রেয়স আয়ার, নেহাল ওয়াধেরার মতো ব্যাটসম্যানরা হাল ধরার জন্য যথেষ্ট দক্ষ। এছাড়া শশাঙ্ক সিং, মার্কাস স্টোইনিসের ভূমিকাও হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পাঞ্জাবের বোলিং যথেষ্ট ঝাঁঝালো। নতুন বলে পেসার অর্শদীপ সিং ঘরের মাঠে ছোবল মারতে চাইবেন বেঙ্গালুরুর ব্যাটিংয়ে। কাইল জেমিসন, মার্কো জানসেনও উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করবেন ব্যাটারদের। এছাড়া রয়েছেন বিজয়কুমার বিশাক। স্পিনার হরপ্রীত ব্রার গত কয়েক ম্যাচে কোচ পন্টিংয়ের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। ফলে ছন্দহীন চাহালকে ডাগ-আউটেই থাকতে হতে পারে।
অন্যদিকে, আরসিবি’র ব্যাটিং দারুণ শক্তিশালী। বড় টার্গেটও অনায়াসেই চেজ করছে তারা। গত ম্যাচে লখনউয়ের দেওয়া ২২৮ রানের টার্গেট ৬ উইকেট হাতে থাকতেই তুলে নিয়েছিলেন আরসিবি’র ব্যাটাররা। আসলে ফিল সল্ট ফর্মে ফিরেছেন। কোহলি বরাবরের মতোই ব্যাট হাতে চেষ্টা করছেন সেরাটা মেলে ধরার। এছাড়া আছেন রজত পাতিদার, লিয়াম লিভিংস্টোন, মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও জীতেশ শর্মা। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ তাঁরা।
বোলিংয়ে হ্যাজলউড ফিরতে চলেছেন। ফলে বেঙ্গালুরুর পেস আক্রমণ বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছে। বাঁ হাতি পেসার যশ দয়ালের সঙ্গে ভুবনেশ্বর কুমারকেও প্রথম দলে দেখা যেতে পারে। স্পিন বিভাগে ক্রণাল পান্ডিয়ার সঙ্গে দেখা যেতে পারে সুয়াশ শর্মাকে।



