পুনে: ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ওই জঘন্য অপরাধীর ফাঁসি না হচ্ছে আর আমার মেয়ে ন্যায়বিচার পাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন আমাদের বাড়ি না আসেন। আমাদের সান্ত্বনার দরকার নেই। এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।’ চোখ লাল। জল মুছতে মুছতে ক্ষোভে-দুঃখে রবিবার এমনই জানালেন নির্যাতিতার বাবা। চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর খুন। পুনের নাসরাপুরের ঘটনায় নিন্দার ঝড় মহারাষ্ট্র জুড়ে। এই ঘটনায় ধৃত ৬৫ বছরের অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে শনিবার মুম্বই-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয়রা। মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব অসহায় বাবা। তাঁর বক্তব্য, ‘মেয়ের অস্থি বিসর্জন করতে দেহুতে এসেছি। আত্মীয়দের কাছে শুনলাম, আমাদের সান্ত্বনা দিতে একের পর এক রাজনৈতিক নেতারা বাড়ি আসছেন। একটাই অনুরোধ অপরাধীর ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত কেউ বাড়ি আসবেন না। ন্যায়বিচার পেলে তবেই সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।’
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেও এধরনের কুকর্মে জড়িয়েছেন অভিযুক্ত। ১৯৯৮ সালে যৌন হেনস্তার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। পরের দিকে ২০১৫ সালে প্রতিবেশী এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পকসো আইনে মামলা রুজু হয়। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ২০১৯ সালে ছাড়া পেয়ে যান তিনি। পুনে (গ্রামীণ) এসএসপি সন্দীপ সিং গিলের জানান, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে দু’টি একই ধরনের মামলা রয়েছে। অভিযুক্তের এই ধরনের প্রবণতা রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ধরনের অপরাধীর জেল থেকে ছাড়া পাওয়া নিয়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। উদ্ধবপন্থী শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, মহারাষ্ট্রের সরকার অকর্মণ্য। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, ‘অভিযুক্ত যাতে মৃত্যুদণ্ড পায়, সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। জনতার ক্ষোভ স্বাভাবিক। তবে কয়েকজন বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।’