Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বৃষ্টি হলে চালু হবে পাম্পিং স্টেশন, জোয়ার-ভাটায় স্বয়ংক্রিয় লকগেট, ‘স্মার্ট’ হতে চলেছে কলকাতার পুর নিকাশি ব্যবস্থা

কলকাতার পুরসভা স্মার্ট নিকাশি ব্যবস্থার জন্য পাম্পিং স্টেশন ও লকগেট স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে। বৃষ্টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি। বিস্তারিত পড়ুন।

বৃষ্টি হলে চালু হবে পাম্পিং স্টেশন, জোয়ার-ভাটায় স্বয়ংক্রিয় লকগেট, ‘স্মার্ট’ হতে চলেছে কলকাতার পুর নিকাশি ব্যবস্থা
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: বৃষ্টি হলে নিজে থেকেই চালু হয়ে যাবে পাম্পিং স্টেশন। গঙ্গার জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে এবং বন্ধ হবে লকগেট। পুরোটাই নিয়ন্ত্রিত হবে নির্দিষ্ট একটি সার্ভার থেকে। এভাবেই ‘স্মার্ট’ হচ্ছে কলকাতা পুরসভা এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা। পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও অবশেষে তার বাস্তবায়ন হতে চলেছে শহরে। সম্প্রতি পুরসভায় এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। সেখানে ঠিক হয়েছে, দ্রুত এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় জুড়বে শহরের সবক’টি নিকাশি পাম্পিং স্টেশন। গোটা ব্যবস্থাপনা রূপায়ণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি সংস্থা ওয়েবেল-কে।

Advertisement

বর্তমানে কলকাতা পুরসভার পাম্পিং স্টেশনগুলি কর্মচারীরাই (ম্যানুয়ালি) ‘অপারেট’ করেন। সমস্ত পাম্পিং স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা, বিশেষ করে বর্ষাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক-কর্মীদের মোতায়েন রাখতে হয়। গঙ্গা এবং আদিগঙ্গার (টালিনালা) ধারের সমস্ত লকগেট জোয়ারের সময় বন্ধ করা এবং ভাটার সময় খুলে দেওয়ার দায়িত্বও সামলান কর্মীরা। ফলে শিফট ভাগ করে কর্মী মোতায়েন করতে হয়। কখন পাম্প চালাতে বা বন্ধ করতে হবে বা জোয়ার-ভাটার সময়—সবটাই কর্তৃপক্ষের থেকে টেলিফোনে নির্দেশ যায়। এই প্রক্রিয়ার ঝঞ্ঝাট কমাতে এবং আরও গতিশীল করতে নিকাশি ব্যবস্থাকে ‘স্মার্ট’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি পাম্পিং স্টেশনে পাম্পগুলিতে বসানো হবে বিশেষ ধরনের সেন্সর। পুরসভার ৮০টি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে স্থায়ী পাম্পের সংখ্যা ৪৬০। প্রত্যেকটিতে বসানো হবে সেন্সর। সেই সঙ্গে পুরসভার পরিচালিত লকগেটগুলিতেও লাগানো হবে সেন্সর। সমস্ত সেন্সরের সরাসরি সংযোগ থাকবে পুরসভায় থাকা সার্ভারে। কন্ট্রোল রুম থেকেই গোটা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে বৃষ্টি হলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পাম্প চালু করে দেওয়া হয়। ফোন করে প্রতিটি পাম্পিং স্টেশনে ‘অ্যালার্ট’ পাঠাতে হয়। 
শহরের বিভিন্ন রাস্তায়ও সেন্সর লাগানো হবে। জল জমলে তার বার্তা পৌঁছবে পাম্পিং স্টেশনে। বৃষ্টি হচ্ছে, রাস্তায় জল জমেছে—এই সার্বিক পরিস্থিতি ধরা পড়বে সেন্সরে। তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাম্পগুলি চালু হয়ে যাবে। জোয়ার-ভাটার ক্ষেত্রেও লকগেটগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে এবং বন্ধ হবে। সেক্ষেত্রে পাম্পিং স্টেশন বা লকগেটগুলিতে কি আর কোনো কর্মীর প্রয়োজন হবে না? আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই সিস্টেম বাস্তবায়িত হলে পাম্পিং স্টেশনে কর্মচারীদের কাজ থাকবে না বা তাঁদের আর রাখা হবে না, এমনটা নয়। কারণ, পাম্প চালানো ছাড়াও পাম্পিং স্টেশনে বহু ধরনের কাজ রয়েছে। তাছাড়া স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিভ্রাট দেখা দিতেই পারে। তখন পাম্পগুলি ‘ম্যানুয়ালি’ চালাতে হবে। তবে শহরের এমন অনেক লকগেট আছে গঙ্গার ধারে বা টালিনালা সংলগ্ন অংশে, যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে জীবন হাতে নিয়ে কর্মীদের কাজ করতে হয়। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এসে গেলে কর্মীদের কাজের ঝুঁকি কমবে। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগেও এই ধরনের ব্যবস্থা চালুর জন্য কেইআইআইপি প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিছু কিছু পম্পিং স্টেশন এবং রাস্তায় সেন্সর বসানোও হয়। কিন্তু গোটা প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়ে। সেন্সরগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আর ঠিক করা হয়নি। এবার নতুন করে ওয়েবেল-কে দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ