নয়াদিল্লি: কমেন্ট্রি বক্স থেকে আর ক্রিকেট মাঠে ফেরা হল না চেতেশ্বর পূজারার। অবসর নিয়েই ফেললেন তিনি। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদায়ী বার্তায় পুজি লিখেছেন, ‘ভারতের জার্সি পরা, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, মাঠে নেমে সব সময় সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরার চেষ্টা—মনের এই অভিব্যক্তি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে সব ভালোরই একটা শেষ থাকে। তাই কৃতজ্ঞচিত্তে ক্রিকেটের সব ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছি। অনেক ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি। সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
২০১০ সালে টেস্ট অভিষেক। ১০৩টি টেস্ট ম্যাচ পূজারা করেছেন ৭১৯৫ রান। ব্যাটিং গড় ৪৩.৬০। খেলেছেন পাঁচটি ওডিআই। দ্রাবিড়ের অবসরের পর ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন পূজারাই। ১৯টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আফগানিস্তান ছাড়া বাকি সব টেস্ট খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে শতরান হাঁকিয়েছেন। তবে সবচেয়ে সফল অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে পূজারার ঝুলিতে।
২০০৫ সালে সৌরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পথ চলা শুরু পুজির। শেষ ম্যাচটি খেলেছেন সাসেক্সের হয়ে কাউন্টিতে। বিদায়ী বার্তায় স্মৃতির সরণি হাতড়ে পূজারা লিখেছেন, ‘রাজকোটের মতো ছোট শহর থেকে পথ চলা শুরু। অন্যদের মতো আমিও ভারতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন সফল হয়েছে। বহু সুযোগ পেয়েছি, সাক্ষী থেকেছি নানা অভিজ্ঞতার। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তার জন্য রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং বিসিসিআইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে এই জায়গায় পৌঁছনো অসম্ভব হতো, যদি না ছোটবেলার কোচ এবং আধ্যাত্মিক গুরুকে পাশে পেতাম।’
২০২৩ সালে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন পূজারা। তারপর আর দলে জায়গা হয়নি। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। চেষ্টা চালিয়েছিলেন কামব্যাকের। কিন্তু বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো তারকারা আচমকা টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর পূজারা বুঝে গিয়েছিলেন, অপেক্ষাই সার। ইংল্যান্ডের মাটিতে গিলের নেতৃত্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে ভারত। কোহলি, রোহিতের অভাবও বোঝা যায়নি। দেওয়াল লিখন পড়তে পারছিলেন পূজারাও। তাই নিয়েই ফেললেন অবসর। অবশ্য ধারাভাষ্যকার হিসেবে ইংল্যান্ড সফরে যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছেন পুজি। আগামী দিনে এই ভূমিকাতে তাঁকে আরও সক্রিয় হতে দেখা যাবে। পূজারা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘অবসর একেবারেই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে মনে হয়েছিল আরও একটা বছর রনজি খেলব। কিন্তু পরে দেখলাম অনেক তরুণ ক্রিকেটার উঠে আসছে। তাই ওদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় বলে মনে হয়েছে।’