উৎসবে
তপনকুমার দাস
ঘাসের ডগায় আলোর চমক
শিশির হীরের কুচি
থাক তোলা থাক, এই ক’টা দিন
ছুটির পড়ার সূচি ।
হিমেল হাওয়া শিউলি সকাল
পালকি কাশের কোলে
পদ্ম শালুক শুভ্র আকাশ
মেঘের ভেলায় দোলে।
শরৎ এলেই মন কেমনের
আরশিনগর মনে
গাজনতলার ঠাকুর দালান
আসার সেদিন গোনে।
ঘোড়ার গাড়ির টগ বগা বগ
ঈশান কোণের বাঁকে
মাটির রাস্তা হোক না ধূসর
করব বরণ তাঁকে।
ঢাকের বাদ্যি ঘণ্টা কাঁসর
শারদীয় উদ্ভাসে
তোমার আমার দুগগা আসেন
উৎসবে উল্লাসে।
মানুষ হয়ে উঠতে হয়
প্রদীপ আচার্য
পাখি সুন্দর নীল আকাশে, খাঁচায় পুরে পুষবি তাকে?
তোকেও যদি বন্দি করি সান্ত্বনা কী দিবি মাকে?
জানি, মা তোর কাঁদবে ভীষণ, কেঁদে কেঁদেই অন্ধ হবে।
পাখিরও তো মা আছে রে, তার কথা কে ভাববে তবে?
পাখির পাখনা ওড়ার জন্য, খাঁচায় থাকার জন্য নয়,
জলের মতো সত্যিগুলি মানুষকেই তো বুঝতে হয়।
ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে পাখি, সেই দৃশ্য দেখেও সুখ
তার বদলে দেখতে বলিস খাঁচায় পাখির বেজার মুখ?
নীল আকাশের শূন্যে নয় রে গাছে গাছেই পাখির বাসা
গাছও তাই আকুল হয়ে চায় মানুষের ভালোবাসা।
দিন উজ্জ্বল হয় তখনই গাছে গাছে ডাকলে পাখি
গাছগাছালি, পাখপাখালি আয় যত্নে আগলে রাখি।
পাখিরাই তো ঘড়ি প্রকৃতির, ডেকে বলে দেয় ভোর হ’ল
ইশকুল আছে, পড়াও আছে, বন্ধু এবার চোখ খোলো।
এসব জ্ঞানের সুবাস নিয়েই ফুলের মতো ফুটতে হয়
মানুষকে তাই সবার আগে মানুষ হয়ে উঠতে হয়।



