উনিশ শতক যেন ভারতবাসীর কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনো আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
রাজা ভট্টাচার্য: উইলিয়াম টেলরের নীলাভ দুই চোখ যে ক্রমেই বড়ো বড়ো হয়ে উঠছে, সেটা বুঝতে অসুবিধা হল না টেবিলটাকে ঘিরে বসে থাকা ইংরেজ সৈনিকদের। কড়া প্রশাসক হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে টেলরের। তাঁর সামনে মুখ খোলার সাহস হচ্ছে না কারওরই। তবে এ ওর দিকে আড়চোখে তাকানোটা বেড়েই চলেছে। এমন কী দেখতে পেয়েছেন পাটনা জেলার কমিশনার, যে তাঁর চোখে এমন প্রবল অবিশ্বাস ফুটে উঠছে?
‘আর ইউ শিওর জন, এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য?’
পুলিশ-কর্তা জোনাথন রাইট দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন। শক্ত গলায় বললেন, ‘ইয়েস স্যার! রিপোর্টে কোনো ভুল নেই। পাটনায় খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে চলেছে।’
‘সে তো বোঝাই যাচ্ছে!’ অধৈর্য গলায় বললেন টেলর, ‘আর কিছু তোমার চোখে পড়েনি? এমন কোনো বৈশিষ্ট্য, যা একেবারে অভাবনীয়?’
দস্তুর মতো অবাক হয়ে উপরওয়ালার দিকে তাকালেন রাইট। তাঁর মস্তিষ্ক এই মুহূর্তে দ্রুত আরও একবার তলিয়ে দেখছে সবকটা রিপোর্ট। প্রত্যেকটাই তিনি পড়েছেন তন্নতন্ন করে। না, আলাদা করে চোখে পড়ার মতো কিছু তো তাঁর মনে পড়ছে না!
অসম্ভব অবাক চোখে আরও কিছুক্ষণ টেবিলে ছড়িয়ে রাখা রিপোর্টগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন টেলর। তারপর থমথমে গলায় বললেন, ‘এই পির আলি লোকটা কে?’
অন্ধকার ঘরে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলে যেমন চোখ ধাঁধিয়ে যায়, রাইটের ঠিক সেই রকম অবস্থা হল। কয়েক সেকেন্ড স্তম্ভিত হয়ে কমিশনারের লাল হয়ে ওঠা মুখটার দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকা নিজের হাঁটুর উপরে একটা জোরালো চাপড় মেরে তিনি বলে উঠলেন, ‘বাই জোভ! এটা আমার মাথায় এল না কেন?’
টেবিল ঘিরে বসে থাকা অন্য অফিসারেরা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন দেখে টেলর বললেন, ‘আপনারা আলাদা আলাদা ভাবে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। একজন অন্যজনের রিপোর্ট দেখেননি। স্বাভাবিকভাবেই এদের মধ্যে যে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যটা রয়েছে, সেটা আপনারা জানতে পারেননি।’
‘কী বৈশিষ্ট্য স্যার?’ জিজ্ঞেস করলেন একজন অফিসার।
টেলর বললেন, ‘‘আপনারা পাটনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ‘সিপাহি মিউটিনি’ সম্পর্কে যতগুলো রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটাই শেষ পর্যন্ত মিলিত হয়েছে একটাই বিন্দুতে। সেই মানুষটির নাম পির আলি খান।’’
একটা বিস্মিত মর্মরধ্বনি যেন বয়ে গেল সমস্ত ঘরটা জুড়ে। আলাদা আলাদা ভাবে রিপোর্ট জমা দিলেও প্রত্যেক অফিসার জানেন, তাঁদের নিজের নিজের রিপোর্টে এই নামটি নিশ্চিতভাবেই রয়েছে। পির আলি খান!
‘পাটনা শহরের দায়িত্বে কে রয়েছেন?’ জিজ্ঞাসা করলেন টেলর।
‘আমি নিজেই আছি স্যার।’ বলে উঠলেন রাইট।
‘এনি আইডিয়া অ্যাবাউট দিস ব্লাডি ফেলো?’
‘এবার মনে পড়েছে স্যার। আমার রিপোর্টে যতজনের নাম রয়েছে, স্বভাবতই আমি তাদের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেছিলাম। এই পির আলি নামের লোকটা নেহাতই সাধারণ। পুরানা কেল্লা থেকে গঙ্গার দিকে যাওয়ার রাস্তার পাশে ওর একটা বইয়ের দোকান আছে।’
‘এই বর্বর দেশের মানুষেরা আবার বইও পড়ে?’
অস্বস্তির সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করলেন কমিশনারের অফিসে বসে থাকা অফিসারেরা। উইলিয়াম টেলরের ভারত-বিদ্বেষ সকলেরই জানা আছে। এই দেশের বাসিন্দাদের তিনি মানুষ বলেই মনে করেন না। যেকোনো ভারতীয়কে ভয়ংকরভাবে অত্যাচার করাটা তাঁর একটা শখ। বিশেষ করে ইদানীং সেই শখ যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
কারণটাও স্পষ্ট। মাস তিনেক হল গোটা ভারতবর্ষে যেন আগুন ধরে গিয়েছে। বারাকপুর থেকে যে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন মঙ্গল পাণ্ডে নামের এক সৈনিক, তা এখন হু হু করে ছড়িয়ে যাচ্ছে সমস্ত দেশে। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে লক্ষ্মীবাঈ, নানাসাহেব, তাঁতিয়া টোপিদের নাম। পাটনাতেও যে যেকোনো মুহূর্তে দপ করে জ্বলে উঠতে পারে সেই বিদ্রোহের আগুন, সে বিষয়ে এই ঘরে উপস্থিত কারও মনেই কোনো সন্দেহ নেই। কাজেই তার প্রথম স্ফুলিঙ্গটুকু দেখতে পেলেও রাগে যেন উন্মত্ত হয়ে উঠছেন উইলিয়াম টেলর। পাটনায় বইয়ের দোকান— এই শব্দটাই তাঁর ধারণার বাইরে।
‘বই মানে...’ সামান্য ইতস্তত করে রাইট বললেন, ‘পুরানো পুঁথি, হাতে লেখা বই— এইসব। আসলে লোকটার কাজ হল পুরানো বই বাঁধানো। ঠান্ডা শান্ত মানুষ। পুঁথি দেখার নাম করে এক সেপাইকে পাঠিয়েছিলাম ওর দোকানে। সে ফিরে এসে বলল, নরম-সরম মানুষ, হেসে ছাড়া কথা বলে না।’
‘তাহলে প্রত্যেকটা রিপোর্টে এর নাম আসছে কেন?’
‘সেটা আমিও বুঝতে পারছি না স্যার। কিন্তু আজ পর্যন্ত পাটনা শহরে এবং তার আশপাশের অঞ্চলে হাতে লেখা যত চিরকুট ধরা পড়েছে, যত ইশতেহার বা প্রচারপত্র— প্রত্যেকটাই এই লোকটার দোকান থেকেই এসেছে।’
প্রায় এক মিনিট চুপ করে বসে থেকে হঠাৎ টেবিলের উপর একটা আলতো ঘুষি মারলেন টেলর, ‘বুঝেছি। বইয়ের দোকান চালানোর নাম করে লোকটা আসলে আমাদের নাকের ডগায় বসে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গোপন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল। অদ্ভুত ধূর্ত লোক! তেমনই সাহস!’
‘শুধু তাই নয় স্যার।’ বললেন আর একজন অফিসার, ‘সম্প্রতি একটা লোক ডেপুটি কমিশনার গর্ডনের উপর গুলি চালিয়ে দিয়েছিল, মনে আছে?’
‘ডেফিনিটলি!’ বললেন টেলর, ‘কপাল জোরে বেঁচে গিয়েছিল গর্ডন।’
‘সেও নাকি এই পীরের কাছ থেকেই বন্দুক আর গুলি পেয়েছিল!’
‘হোয়াট! এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে ওকে গ্রেপ্তার করলেন না কেন?’
‘কোনো প্রমাণ নেই স্যার! নিতান্তই উড়ো খবর।’
‘ড্যাম ইট!’ গর্জন করে উঠলেন কমিশনার, ‘আগেও বলেছি— কোনো ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। সন্দেহটুকুই যথেষ্ট! এক্ষুনি যান! এই মুহূর্তে ভিখিরিটাকে... হোয়াট দ্য হেল ইজ দ্যাট?’
কথাটা যে টেলর শেষ করতে পারলেন না, তার কারণ আর কিছুই নয়, কমিশনার সাহেবের বিশাল বাংলোর পাঁচিলের বাইরে থেকে এবার স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে একটা অদ্ভুত শব্দ। মনে হচ্ছে, যেন অগণিত মানুষের তীব্র হিংস্র চিৎকার ক্রমশ এদিকেই এগিয়ে আসছে।
‘কীসের শব্দ এটা? চৌকিদার! কোথায় গেল সেই ডার্টি নিগার?’ গর্জন করে উঠলেন কমিশনার।
আশ্চর্য, সেই হাঁক শোনার সঙ্গে সঙ্গে কেউ ছুটে এল না। বাইরে থেকে কোনো উত্তর পর্যন্ত ভেসে আসছে না। ‘হোয়াট দ্য হেল!’ তেড়েফুঁড়ে টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন টেলর, ‘মিঃ রাইট, আপনি কি একটু বাইরে গিয়ে...।’
বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হল না অবশ্য। তার আগেই পড়িমড়ি করে ছুটতে ছুটতে এসে ঘরে ঢুকল একজন চাপরাশি। অনুমতির তোয়াক্কা না করেই চিৎকার করে উঠল, ‘পালাও সাহেব! এক্ষুনি পালাও! সারা শহরের লোক খেপে উঠেছে। বন্দুক-পিস্তল নিয়ে এদিকেই ছুটে আসছে!’
ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন সকলে। গাড়িবারান্দার ছাদে গিয়ে দাঁড়াতেই অবশ্য বোঝা গেল, চাপরাশি আদৌ ভুল কিছু বলেনি। এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে, আগুন জ্বলছে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। আর জনতা ছুটে আসছে এদিকেই। তাদের হাতে মশাল আর অস্ত্র, চোখে আগুন।
‘মিউটিনি তাহলে পাটনা শহরেও পৌঁছে গেল!’ দম আটকানো গলায় বলে উঠলেন রাইট। কয়েকদিন আগেই কানপুরে কী ঘটে গিয়েছে, তা জানা আছে এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের। নিশ্চিতভাবে, পাটনার পরিণতি একই হতে চলেছে।
‘অ্যান্ড দেয়ার কামস্ দ্য ম্যান!’ বলে উঠলেন রাইট। টেলর দ্রুত ফিরে তাকালেন তাঁর আঙুল লক্ষ করে। সকলের আগে আগে ছুটে আসছেন মাঝবয়সি একজন মানুষ। মাথায় ফেজটুপি, গালে চাপদাড়ি, হাতে তুলে ধরা বন্দুক। রোগাভোগা চেহারাটার সঙ্গে বন্দুকটাকে অদ্ভুত বেমানান দেখাচ্ছে। ‘দ্যাটস দ্য মেইন কালপ্রিট। পির আলি খান!’ প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন রাইট।
‘এবার এই মূর্খ বর্বরদের উচিত শিক্ষা দেওয়া যাক।’ শক্ত গলায় টেলর বললেন, ‘গার্ডদের ডাক।’ তার অবশ্য দরকার হল না। ইতিমধ্যেই কমিশনারের বাংলো ঘিরে ফেলেছে ইংরেজ শাসকের সেনাবাহিনী। রাইটের উঁচু গলার আদেশ শোনার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল তুমুল গুলিবর্ষণ। একদিকে জনা তিরিশেক প্রশিক্ষণবিহীন দেশপ্রেমিক ভারতবাসী আর তাদের অনুসরণ করে ছুটে আসা নিরস্ত্র কিছু মানুষ, অন্যদিকে প্রশিক্ষিত ব্রিটিশ সৈন্য। প্রথমেই রণেভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে বাঁচল সাধারণ নিরস্ত্র মানুষগুলো। সেই ত্রিশজন অবশ্য লড়ে গেল প্রাণপণে, কিন্তু শেষমেষ হার মানতে হল তাদেরও। আহত রক্তাক্ত অবস্থায় একে একে ধরা পড়তে লাগল তারা। অর্ধেক পালাল, বাকিরা লুটিয়ে পড়ল।
এইবার নীচে নেমে এলেন খাঁটি ইংরেজরা। যুদ্ধ শেষ। আর ভয় নেই।
‘বাকিদের আপাতত ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক জেলখানায়।’ চড়া গলায় হুকুম দিলেন টেলর, ‘শুধু ওই সামনের লোকটাকে এখানে নিয়ে এসো।’
প্রকাণ্ড বাংলোর উঠোনে একটা গাছের নীচে চেয়ার পেতে বসলেন টেলর। সেই লোকটাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এসে দাঁড় করানো হল সাহেবের সামনে। সম্পূর্ণ নির্ভীক চোখে সরাসরি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে লোকটা।
‘কী নাম তোমার?’ ভাঙা হিন্দিতেই জিজ্ঞাসা করলেন টেলর।
‘পির আলি খান।’ কপাল থেকে রক্ত মুছে ফেলে বলল লোকটা।
‘তুমিই? এইমাত্র তোমার কথাই হচ্ছিল। তুমি বই মেরামত করতে?’
‘জি হাঁ।’
‘আর তার আড়ালে আমার প্রজাদের নিষিদ্ধ ইশতেহার পাঠাতে, যাতে তারা সিপাহিদের সঙ্গে মিলে বিদ্রোহ করে?’
টেলর ধরেই নিয়েছিলেন, লোকটা এই অপরাধ অস্বীকার করবে। তাকে হকচকিয়ে দিয়ে লোকটা বলল, ‘জি, পাঠাতাম। আমরা কেউ আপনার প্রজা নই। আমাদের একটা দেশ আছে। আমরা তার ভালোমন্দ বুঝে নিতে পারব। সেই কথাটাই আমি সবাইকে বোঝাতাম।’
‘হুজুর! দানাপুর ছাউনির সেনারাও এই লোকটার কথায় চলতে শুরু করেছিল!’ উত্তেজিত গলায় দূর থেকে বলল এক সিপাহি।
লোকটা সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে মাথা ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, ‘তুম ভি মৎ ভুলো ভাই— মেরি তরহা তুম ভি এক হিন্দুস্তানি হো! এই গোরা কওন হ্যায়, যো হমে হুকুম দেতা হ্যায়?’
আর সহ্য করতে না পেরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সপাটে একটা চড় কষালেন টেলর। রোগা-পাতলা লোকটা ছিটকে পড়ে গেল। কিন্তু মিনিট খানিকের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে আবার উঠেও দাঁড়াল। আগের মতোই সটান তাকিয়ে রয়েছে সাহেবের চোখের দিকে। সেই দৃষ্টিতে কোনো ভয় নেই, আড়াল নেই।
‘কবে থেকে করছিস এইসব কাজ?’ রাগে গরগর করছে কমিশনারের গলা। এরকম ভারতীয় তিনি এর আগে দেখেননি। লোকটার বুকে ভয়ডর নেই।
‘কয়েক মাস হল।’
‘তোর সঙ্গে আর কে কে ছিল?’
‘কী যে বল সাহেব!’ এবার ঠোঁটের রক্ত মুছে এক মুখ হাসল লোকটা, ‘আমরা পরাধীন হতে পারি, গদ্দার নই!’
আগুন চোখে পির আলির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে টেলর কেটে কেটে বললেন, ‘নিয়ে যা লোকটাকে। কয়েদ করে রাখবি। প্রত্যেকটা নখ গরম সাঁড়াশি দিয়ে উপড়ে নিবি। কান কেটে নিবি অল্প অল্প করে। যতক্ষণ না ও ওর সঙ্গীদের নাম উগরে দিচ্ছে, ওর রেহাই নেই।’
এরপর আর মাত্র তিনদিন বেঁচে ছিলেন পির আলি খান। প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর শরীরটাকে যন্ত্রণার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছিল ইংরেজ পুলিশ। একজন সঙ্গীর নামও বলেননি পির আলি। নিজের পরিচয় অবশ্য দিয়েছিলেন সামান্যই। উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার মহম্মদনগরে জন্ম হয়েছিল তাঁর, খুব ছোটোবেলায় পালিয়ে এসেছিলেন পাটনায়— এইসব বলেছিলেন শুধু। ফাঁস করেননি একজনও সঙ্গীর নাম। উলটে বারবার বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে যারা ধরা পড়েছে, সেই গোলাম আব্বাস, নন্দুলাল, জুম্মান, কালি খান— এদের কাউকে তিনি চেনেন না।
৭ জুলাই, ১৮৫৭ তাঁকে টেলর ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন হাজারো মানুষের চোখের সামনে, যাতে তাঁর প্রজারা ভয় পায়।
তা অবশ্য হয়নি। মহাবিদ্রোহ যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল, পরের নব্বই বছর ধরে সেই আগুনেই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল ইংরেজ শাসন।



