নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো গোটা রাজ্যে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল সোমবার থেকেই। এদিন রাজ্যের প্রতিটি জেলার নামে খোয়া ক্ষীরের ভোগ সহ পুজো দেওয়া হয় মন্দিরে। সকাল ১০টা বাজতেই খোল-করতাল সহযোগে ইসকন ভক্তদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মন্দিরে প্রবেশ করে। শামিল হয়েছিলেন লাল পাড় সাদা শাড়ি পরিহিত ৩০ জন মহিলা। সবার মাথায় ছিল ৩০টি খোয়া ক্ষীরের ডালা। প্রতিটিতে ১০ কেজি করে মোট ৩০০ কেজি ক্ষীর ছিল। সেগুলি কাঁসার থালায় প্রভু জগন্নাথের সামনে সাজিয়ে নিবেদন করা হয়। ৩০টির মধ্যে ২৩টি প্যাকেটের উপর ২৩টি জেলার নাম লেখা ছিল। পুজো শেষে ফের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ জগন্নাথ দেবের প্রসাদ ওই ৩০ জন মহিলা মাথায় করে সার্ভিস ব্লক এলাকায় নিয়ে যান।
এদিন, মন্দিরে বিশেষ পুজো উপলক্ষ্যে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী উপস্থিত ছিলেন। খোয় ক্ষীর নিবেদনের পরই প্রথম ভোগ বিতরণের তালিকায় ছিল পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২৫টি ব্লক ও পাঁচটি পুরসভার পুরসভার প্রতিনিধিরা দীঘা থেকে ওই ভোগ সংগ্রহ করেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার ভোগও সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাকি ২০টি জেলার ভোগ মাইনাস ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিটি জেলায় পৌঁছে যাবে। এরপর জগন্নাথদেবের প্রসাদ মিশিয়ে জেলায় জেলায় হলুদ প্যাঁড়া ও মিষ্টি গজা তৈরি হবে। সেই প্রসাদ বাংলার প্রতি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য।
আগামী ১১জুন বুধবার, জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। দীঘায় ধুমধাম করে সেই অনুষ্ঠান পালিত হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ জন ইসকন সন্ন্যাসী এসে গিয়েছেন। পিতলের কলস দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে স্নান করানো হবে। মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত খড়ের চালাগুলিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই হবে স্নানযাত্রা। ২৬ জুন জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে নেত্র উৎসব। ২৭ জুন রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা রওনা দেবেন মাসির বাড়িতে।
রথযাত্রাকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীঘা জমজমাট। প্রচুর সংখ্যক ভক্ত আসছেন। রথের সময় হোটেলে প্রচুর বুকিংও রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, ‘সোমবার জগন্নাথ প্রভুর কাছে ৩০০ কেজি খোয়া ক্ষীরের ভোগ নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে ২০টি জেলার ভোগ কলকাতার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। রথযাত্রার প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে।’ ইসকনের সহ-সভাপতি তথা মন্দির ট্রাস্টের সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, ‘গোটা রাজ্যের মানুষ বাড়িতে বসে দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের ছবি ও প্রসাদ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’ নিজস্ব চিত্র