নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার পুরশুড়া থেকে ডিহিভুরশুট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নিল পূর্তদপ্তর। সেই রাস্তায় আপাতত তাপ্পি মেরে সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে পূর্তদপ্তর জানিয়েছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে দ্রুত মেরামতির দাবিতে ওই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের আর্জি মেনে সেখান দিয়ে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তাতেও অনেকে অসুবিধায় পড়েন।
পূর্তদপ্তরের আরামবাগ মহকুমার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, আপাতত দপ্তরের তরফে সেখানে প্রাথমিক সংস্কার করা হবে। বর্ষার সময় যাতে বাসিন্দাদের চলাচলে অসুবিধা এড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হচ্ছে। পরে সেটির আমূল সংস্কার করা হবে। তারজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই টেন্ডার হবে।
পুরশুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনীশরঞ্জন মাজি বলেন, ওই রাস্তাটি বর্তমানে ভীষণভাবে বেহাল হয়ে রয়েছে। সংস্কারের কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে বলে সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে আমাকে জানানো হয়েছে। মাঝে বৃষ্টির জন্য হয়তো সংস্কার কাজ হয়নি। রাস্তাটি ভালোভাবে সংস্কার না হলে ফের বেহাল হয়ে পড়তে পারে। তাই সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জানিয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ পাখিরা বলেন, রাস্তায় এখনও কাজ শুরু হয়নি। একই অবস্থাতেই রয়েছে। বাস ও অন্যান্য যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, পুরশুড়ার ওই রাস্তাটি হাওড়া জেলার সঙ্গে সংযোগস্থাপন করেছে। ফলে নিত্যদিন বাসের পাশাপাশি বহু পণ্যবাহী ভারী যান ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু, গত বছর বর্ষার সময় থেকেই রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়ে। তারমধ্যে ভারী যান চলাচলে রাস্তাটির কঙ্কালসার অবস্থা বের হয়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন বাসিন্দারা। তাই দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সম্প্রতি সেখানে মহিলারা অবরোধ করেন। যোগ দেন পুরুষরাও। পাশাপাশি, ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। পরে পুলিস গিয়ে অবরোধ তোলে। ওইদিন থেকে ভারী যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ওই রাস্তায় তারকেশ্বর থেকে আমতা রুটের একাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু বেহাল রাস্তার জেরে বাসের মধ্যেও যাত্রীদের চরম অসুবিধা হয়। মাঝেমধ্যে ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই দ্রুত রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।