নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, রাগের বিস্ফোরণ ঘটল সোমবার দুপুরে। ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গির খান গ্রেপ্তার হতেই তাঁর বাড়ি এবং পার্টি অফিসে আছড়ে পড়ল তীব্র জনরোষ। নির্বিচারে চলল ভাঙচুর। চলল অবাধে লুটপাটও। তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে কেউ বাড়ি নিয়ে গেলেন চেয়ার। কেউ আবার মাথায় করে নিয়ে গেলেন আস্ত ফ্রিজ! তবে যারা এদিন ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়, তাদের বেশিরভাগেরই মুখ গামছায় ঢাকা ছিল।
এদিন সকালে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’-কে জালে তোলে পুলিশ। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক উল্লাস শুরু হয়ে যায় ফলতাজুড়ে। দুপুর গড়াতে না গড়াতে একদল হানা দেয় এই শ্রীরামপুরে তৃণমূল নেতার মূল কার্যালয়ে। অপর দলটি পৌঁছে যায় শ্রীরামপুরেই তাঁর বাড়িতে। সেই বাড়ির সামনে রাখাছিল জাহাঙ্গিরের গাড়ি। ইট দিয়ে মেরে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয় সেই গাড়ির কাচ। এরপর হাতুড়ি, শাবল, ইট— যে যা পেরেছে তা দিয়েই বাড়ির কোলাপসিবল গেট ভাঙতে শুরু করে। কিছুক্ষণের চেষ্টায় তালা ভেঙে যায়। তখন লাঠিসোটা নিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে ঢুকে শুরু হয় তাণ্ডব। ঘরে থাকা আসবাব, টিভিসহ যা যা মিলেছে হাতের সামনে, সব ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে বক্স খাটের পাল্লা তুলে ভিতরের যাবতীয় সামগ্রীর মধ্য থেকে কিছু খুঁজতে দেখা যায়। ততক্ষণে বাড়ির বাকি অংশেও রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে থাকে ক্ষুব্ধ জনতা।
রাস্তার উল্টো দিকেই জাহাঙ্গিরের বিভিন্ন কীর্তিকলাপের সাক্ষী সেই পার্টি অফিস। এখানে কিছুদিন আগেও ভাঙচুর চলেছিল। এদিন তা একেবারে তছনছ করে দেওয়া হয়। একদল যুবক শাটার ও কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। প্রতিটি ঘরে কি আছে না আছে, দেখা হয়। কোথাও সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখা আছে কি না, খতিয়ে দেখেন কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়া লোকজন। তৃণমূলের গুচ্ছ গুচ্ছ পতাকা, ব্যানার ফেস্টুন ছাড়াও কিছু ত্রিপল পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে।
ভাঙচুর চলছে দেখে আশপাশের গ্রামের লোকজনও সেখানে চলে আসে। পার্টি অফিসে কর্মীদের বসার জন্য যে প্লাস্টিকের চেয়ার ছিল, সেগুলি একটা-দুটো করে নিয়ে চলে যেতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। এক বৃদ্ধকে পার্টি অফিসের ভিতর থেকে দু’টি নতুন ক্রাচ নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। কী করবেন এটা নিয়ে? বৃদ্ধ বলেন, ‘বাড়িতে একজন অসুস্থ রয়েছে। তার জন্যই নিয়ে যাচ্ছি।’ এক মহিলাকে কাঁধে করে কম্বল ও চেয়ার নিয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখা গেল। ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট নিয়ে কী বলছে পুলিশ? ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে। ভাঙচুরে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’ তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ফলতার আম জনতার উচ্ছ্বাস। কারণ, তাঁদের দাবি, বহুদিন পর তাঁরা প্রাণ খুলে খুশিতে মেতে উঠতে পেরেছেন। নিতে পারছেন স্বস্তির নিশ্বাস।