ভুবনেশ্বর: কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল ওড়িশা। বিরোধীদের ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্ধে ব্যাপক সাড়া পড়ল রাজ্যে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস, বাম সহ মোট আটটি বিরোধী দল রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দিয়েছিল। রাজধানী ভুবনেশ্বর, কটক, বালেশ্বর সহ বিভিন্ন শহরের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যৌন নিগ্রহের শিকার ছাত্রী মৃত্যুর বিচারের দাবিতে রাজ্য ও জাতীয় সড়ক স্তব্ধ করে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা। ভদ্রক স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়। তার জেরে হাওড়া থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। উৎকল এক্সপ্রেসও প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে পড়ে। সবমিলিয়ে মোট ১০টি ট্রেন দেরিতে চলে বলে ইস্ট-কোস্ট রেলের তরফে জানানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির বাসভবনের কাছে ধর্নায় বসেন একদল বন্ধ সমর্থক। পরে পুলিস অবশ্য তাঁদের সরিয়ে দেয়।
এদিন অশান্তি এড়াতে বালেশ্বর, কটক, ভুবনেশ্বর সহ বিভিন্ন শহরে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করে ওড়িশার বিজেপি সরকার। তবে বন্ধ ঘিরে বড় কোনও অশান্তির খবর নেই। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। দিনের পর দিন যৌননিগ্রহের শিকার হয়ে গায়ে আগুন দিয়েছিলেন বালেশ্বরের এফএম কলেজের ছাত্রী। গত সোমবার রাতে ভুবনেশ্বর এইমসে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে যৌননিগ্রহের অভিযোগে কলেজের বিভাগীয় প্রধান সমীরকুমার সাউকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ছাত্রীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার আট ঘণ্টার বন্ধ ডেকেছিল বিজেডি। বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডাক দেয় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি, আরজেডি সহ বিভিন্ন বামদল। বালেশ্বরে কলেজের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা। ভুবনেশ্বর, কটক ও জাজপুরে ১৬ নম্বর এবং কোরাপুটে ২৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এদিন ভুবনেশ্বর, কটক ও পুরীর রাস্তা ছিল প্রায় জনশূন্য। সরকারি ও বেসরকারি বাসের চাকা গড়ায়নি। ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে পৌঁছাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায় যাত্রীদের। সন্ধ্যার পর অবশ্য জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।