Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই আগুনঝরা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা বোলপুর-শান্তিনিকেতন সহ গোটা বীরভূম জেলায়।

জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই আগুনঝরা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা বোলপুর-শান্তিনিকেতন সহ গোটা বীরভূম জেলায়। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তার সঙ্গে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরম যেন আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। দুপুর গড়াতেই কার্যত ফাঁকা রাস্তাঘাট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে চাইছেন না।

Advertisement

বুধবার শ্রীনিকেতন আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সকাল সাড়ে আটটায় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ। বিকেল পাঁচটা চল্লিশ মিনিটেও তা ছিল ৭১ শতাংশ। 
আবহাওয়া দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকায় শরীর থেকে নির্গত ঘাম সহজে শুকোতে পারছে না। ফলে সাধারণ তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ঢোকার কারণেই এই ভ্যাপসা ও গুমোট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের দিকেও তাপমাত্রা খুব একটা না কমায় অস্বস্তি আরও বাড়ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দিনের গরম রাতেও থেকে যাচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের মধ্যে সোমবারই ছিল সবচেয়ে উষ্ণ দিন। সেদিন তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছুঁয়েছিল। এ ধরনের তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার জোড়া প্রভাবে সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় পর্যাপ্ত জল না খেলে হিট এক্সহস্টশন, ডিহাইড্রেশন ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বাড়তে পারে।
এখন দুপুরের দিকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, শ্রীনিকেতন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের ভিড় অনেকটাই কমে যাচ্ছে। শহরের বাজার বাসস্ট্যান্ড ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও তুলনামূলক কম ভিড় চোখে পড়ছে। গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই জলাশয়ে নেমে স্নান করে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন। স্কুলগুলিতে ইতিমধ্যেই গরমের ছুটি পড়ে গিয়েছে। তবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এখনও পঠনপাঠন চলছে। ফলে চড়া রোদ উপেক্ষা করেই পড়ুয়াদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশ্বভারতী ও বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, দুপুরের দিকে ক্লাস করতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা বঙ্গোপসাগর থেকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে না আসা পর্যন্ত এই গরমও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে মুক্তির সম্ভাবনা কম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ