বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর বন্দনার আগেই প্রয়াত হলেন সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার অধীর বাগচী। শুক্রবার রাতে বাগুইআটির বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাগানের স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় এই শিল্পী। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর সঙ্গীতশিল্পী রুবি বাগচী আগেই প্রয়াত হয়েছেন। তাঁদের দুই কন্যা বর্তমান। উত্তমকুমার অভিনীত ‘দুই পুরুষ’ ছবিতে অধীরবাবুর সুরে মান্না দে’র কণ্ঠে ‘বেহাগ যদি না হয় রাজি’ আজও সমান জনপ্রিয়। শিল্পী সংসদ প্রযোজিত ‘বনপলাশীর পদাবলী’ ছবিতেও অধীরবাবুর সুরের জাদু মুগ্ধ করে সবাইকে। ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ছবিতে ভোলা ময়রার লিপে অধীরবাবুর গান বাঙালি আজও ভোলেনি। হাওড়ার সালকিয়ায় মামাবাড়িতে জন্ম অধীরবাবুর। সঙ্গীতের হাতেখড়ি পিতা তথা প্রখ্যাত সুরকার অনিল বাগচীর কাছে। মায়ের কাছে শেখেন অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলালের গান, পাশ্চাত্য সঙ্গীত। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন ওস্তাদ মেহেদি হুসেন খাঁর কাছে। অভীককুমার নাম নিয়ে একটি ছবিতে অভিনয়ও করেন তিনি। নজরুলগীতিতে অধীরবাবুর অবদানও অনস্বীকার্য। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন তিনি। তাঁর বহু ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে রয়েছেন সঙ্গীত জগতে। ২০১৫ সালে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁকে ‘সঙ্গীত সম্মান’ প্রদান করা হয়। অধীরবাবুর মৃত্যুতে বাংলার সঙ্গীত মহল শোকস্তব্ধ। বিশিষ্ট শিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘খুবই গুণী মানুষ ছিলেন। জমিয়ে আড্ডা দিতেন। অধীর বাগচীর প্রয়াণে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হল।’



