Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিত্যক্ত বেঙ্গল ইমিউনিটি কারখানার জমি জনস্বার্থে ব্যবহারের দাবি সায়ন্তিকার

পরিত্যক্ত বেঙ্গল ইমিউনিটি কারখানার জমি জনস্বার্থে ব্যবহারের দাবি সায়ন্তিকার
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি,বরানগর: তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বরানগরের ‘বেঙ্গল ইমিউনিটি’ কারখানা। সেটির লোহার যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গিয়েছে আগেই। এখন ইট ও কাঠামো খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ১০০ বিঘারও বেশি জমি নিয়ে পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত কারখানাটি। জঙ্গল হয়ে গিয়েছে পুরো জায়গা। মশার আঁতুড়ঘর। ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ বলে সাপের দাপটও মারাত্মক। ফলে সর্বদা আতঙ্কে থাকেন এলাকার বাসিন্দারা। বেঙ্গল ইমিউিনিটি কেন্দ্রীয় সরকারের। কারখানাটির পুনরুজ্জীবন হোক বা জনস্বার্থে ব্যবহৃত হোক জমি- এই দাবি এবার তুললেন বরানগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধানসভায় তিনি এলাকার নাগরিকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি তুলে ধরেন। 
Advertisement
একসময় বেঙ্গল ইমিউনিটিতে নানা ধরণের ওষুধ ও টিকা তৈরি হতো। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে বেসরকারি মালিকানাধীন কারখানাটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। সে সময় প্রচুর মানুষ কাজ করতেন। সিঁথির মোড় থেকে বরানগর বাজারের দিকে এগিয়ে গোপাললাল ঠাকুর রোড। সেখানে প্রায় আশি বিঘা জায়গার উপর রয়েছে কারখানাটি। এছাড়া এ কে মুখার্জি রোডের ন পাড়া এলাকায় প্রায় ২১ বিঘা জায়গাও রয়েছে। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেঙ্গল ইমিউিনিটি বন্ধ হয়। সে জমানায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের লোহার যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গিয়েছিল। এখনও চুরি বন্ধ হয়নি। দুষ্কৃতীরা মাটি খুঁড়ে তামার তার, ঘর ভেঙে ইট, কাঠ ও লোহা চুরি করে চলেছে। যদিও জায়গাটি বড় পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। এখন পাঁচিলের অন্দরে গোটা ক্যাম্পাসটি জঙ্গলের চেহারা নিয়েছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুর আঁতুড়ঘর। সাপ ও নানা ধরনের বিষাক্ত পোকামাকড়ের রাজত্ব। গত বর্ষায় কারখানার চিমনি ভেঙে পাঁচিলের বাইরে গিয়ে পড়েছিল। তার ফলে রাস্তায় পার্ক করে রাখা দু’টি গাড়ি গিয়েছিল ভেঙে। এভাবে ক্রমাগত বিপদের কারণ হয়ে উঠছে পরিত্যক্ত কারখানাটি।
নরেন্দ্রনাথ স্কুল ও সেন্ট জেমস চার্চ রয়েছে এই জায়গার ঠিক পাশে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সেসব নিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। এদিন সেই সব ইস্যু সামনে এনে বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এ সমস্ত তথ্য বিধানসভায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই কারখানার পুরনো কাঠামো পাঁচিলের গা বরাবর রয়েছে। পাঁচিলের বাইরে স্কুল সহ নানা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িও আছে। ওই পুরনো কাঠামো ভেঙে পড়ে যে কোনওদিন বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। গত বছর কারখানার চিমনি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা হচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কারখানার রূপান্তর হোক, অথবা রাজ্য সরকারের রক্ষণাবেক্ষণে জমিটি জনস্বার্থে ব্যবহার হোক।’ 
অন্যদিকে সায়ন্তিকাদেবীর শপথগ্রহণ নিয়ে কুৎসিত অপপ্রচারের অভিযোগে এদিন বরানগরে তৃণমূলকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কুশপুতুল দাহ হয়।’ -নিজস্ব চিত্র 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ