Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

প্রত্যাবর্তনে জেক পলের কাছে হেরেও মন জিতলেন টাইসন

প্রত্যাবর্তনে জেক পলের কাছে হেরেও মন জিতলেন টাইসন
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
টেক্সাস: জুরি বোর্ডের গ্রিন সিগনাল পেতেই জেক পলকে জয়ী ঘোষণা করলেন রেফারি। হাঁটুর বয়সি প্রতিদ্বন্দ্বীকে জড়িয়ে ধরার সময় কিছুটা আবেগতাড়িত লৌহমানব। প্রায় দু’দশক পর পেশাদার বক্সিংয়ে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া ছিলেন মাইক টাইসন। আট রাউন্ডের পর জেক পলের কাছে ৭৯-৭৩ পয়েন্টে বশ মানলেও সমর্থকদের হৃদয় জিতলেন ৫৮ বছরের কিংবদন্তি। সঙ্গে প্রাপ্তি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬৯ কোটি টাকা। আর প্রতিদ্বন্দ্বী জেকের প্রাপ্তি প্রায় দ্বিগুণ। 
Advertisement
মূলত তাঁর বয়সের কথা ভেবেই ম্যাচের নিয়মে কিছু পরিবর্তন করা হয়। টেক্সাসের আর্লিংটনের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে প্রতিটি রাউন্ড ছিল দু’মিনিটের। এমনকী জোরালো আঘাত থেকে বাঁচার জন্য যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের গ্লাভসের ওজনও বাড়ানো হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। আসলে ৫৮ বছরের টাইসনের রিফ্লেক্সে থাবা বসিয়েছে বয়স। পায়ের দ্রুত শাফলিং অনেক শ্লথ। ভয়ঙ্কর সেই আপারকাট আর হুকেও মরচে পড়েছে। তবুও মানুষটার নাম যে টাইসন! হার নিশ্চিত বুঝেও বুক চিতিয়ে লড়ে গেলেন আট রাউন্ডের লড়াইয়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। আসলে পরাজয় বরাবর ঘৃণা করেন তিনি। কেরিয়ারে ৫০টি জয়ের মধ্যে ৪৪ বার তাঁর পাঞ্চে নক-আউট হয়েছে প্রতিপক্ষ। এদিনও কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে জেক পলকে বিপাকে ফেলে বুঝিয়ে দিলেন, ‘বাপু সাবধান। আমি মাইক টাইসন। এত সহজে জিততে দেব না।’
 টাইসন মানেই বিতর্ক আর বদমেজাজ। রিংয়ে ইভান্ডার হোলিফিল্ডের কান কামড়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন। একবার বিমানযাত্রার সময় বেদম পিটিয়েছিলেন সহযাত্রীকে। তাবড় বক্সারও সমঝে চলেন তাঁকে। ১৯৮৫ সালে টাইসনের অবসরের সময় মাত্র ৮ বছর বয়স ছিল জেক পলের। মানে দু’জনের বয়সের ব্যবধান ৩১। বক্সিং রিংয়ে এমন অসম লড়াই ঘিরেও তৈরি হয়েছিল তীব্র উন্মাদনা। ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে মেজাজ হারিয়ে জেককে সপাটে চড় মারেন টাইসন। সবমিলিয়ে অনেকদিন পর সরগরম হয়ে ওঠে টেক্সাসের বক্সিং রিং। বাউট শেষে টাইসনের মন্তব্য, ‘পল অসাধারণ বক্সার। ওকে অনেক শুভেচ্ছা।’ কখনও আক্রমণ, কখনও বিনয়ের আলিঙ্গন। মাইক টাইসনের মুড বোঝা বড় দায়!
সম্পর্কিত সংবাদ