Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত,  পাক গুপ্তচর সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা বাংলাদেশে

পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত,  পাক গুপ্তচর সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা বাংলাদেশে
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিয়েই পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি বৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথমবার পাক সেনার সঙ্গে বাংলাদেশি সেনার যৌথ মহড়ার মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা। আর সেই সূত্র ধরেই এবার বাংলাদেশের মাটিতে গতিবিধি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। ইতিমধ্যেই চার শীর্ষ আধিকারিককে আইএসআই ঢাকায় পাঠিয়েছে বলে খবর মিলেছে। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। পাক গুপ্তচরদের বাংলাদেশে আসার কথা মেনে নিয়ে শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এর সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। তাই ঘটনাপ্রবাহের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যদি দরকার হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি সেনার একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছিল। ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পাকিস্তানের সেনা, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে দেখা করেন। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানে ছিল। আর ২১ জানুয়ারি আইএসআইয়ের চার সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। গত দু’দশকের মধ্যে এই প্রথম সরকারিভাবে আইএসআই সদস্যরা বাংলাদেশে এসেছেন। ওই চার সদস্যের মধ্যে পাক গুপ্তচর সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল অব অ্যানালিসিস শাহিদ আমির আফসারও রয়েছেন। শাহিদ এর আগে পাক সেনার হয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। ওই চারজনকে বাংলাদেশের গুপ্তচর সংস্থা ডিজিএফআইয়ের এক শীর্ষ কর্তা অভ্যর্থনা জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যান। সূত্রের খবর, পাক গুপ্তচরদের বাংলাদেশের বিভিন্ন সেনা ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশি সেনার শক্তি কতটা ও লড়াইয়ের জন্য তারা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়েও দু’পক্ষের আলোচনা হয়েছে। 
বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারতে বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থার বিরুদ্ধে। এর আগে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছে তারা। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের মাটিতে পাক গুপ্তচরদের কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক আধিপত্য বৃদ্ধির চেষ্টা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাসিনা দেশত্যাগ করার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক নেতার মুখে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স নামে খ্যাত) বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার প্রধান পরেশ বড়ুয়ার শাস্তি কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট। এবার আইএসআইয়ের শীর্ষ সদস্যদের বাংলাদেশ সফর গোটা প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ