সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার পোর্টাল দেখতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। যোজনার পোর্টালে জ্বলজ্বল করছে ‘সাকসেসফুল’ স্ট্যাটাস। অর্থাৎ খাতায়-কলমে বাড়ি তৈরি সম্পন্ন, বরাদ্দ টাকাও উঠে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তবে ভাঙাচোরা কাঁচা ঘরেই কোনোক্রমে দিন গুজরান করছেন উপভোক্তারা। দুর্নীতির এই চরম ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রবিবার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত আনন্দপুর এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন মহিলা সহ উপভোক্তারা। অভিযোগের তির স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ ওরফে বিশু মাঝির দিকে। বিক্ষোভের মধ্যেই তাঁর মাথা লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। তাঁকে পুরো এলাকা ঘোরানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার বহু দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেয় বিশু। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি পাকাবাড়ি। সম্প্রতি অনলাইন পোর্টালে আবাসন যোজনার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, তাঁদের নামের পাশে ‘সাকসেসফুল’ স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে। তাতেই ক্ষোভ আরও চরমে ওঠে। রবিবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দপুরের মহিলারা একজোট হয়ে বিশু মাঝির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভের মাঝেই বিশুর মাথা লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছুঁড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর তাঁকে ধরে এলাকায় ঘুরিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
বিক্ষোভকারী সুষমা বাগদির অভিযোগ, আমাদের নামে বাড়ি নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। অথচ বাড়ি পাইনি। আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বাড়ি না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
আর এক বিক্ষোভকারী সরস্বতী বাগদীর অভিযোগ, বিশু মাঝি পাকাবাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নথি নিয়েছিলেন। কারও বাড়ির কাজ শুরু হলেও তা অর্ধেক হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি, তাদের পাকাবাড়ি দিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
যদিও নিজের পিঠ বাঁচাতে অভিযুক্ত বিশু মাঝি যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনেকের নাম নথিভুক্ত হওয়ায় আইডি তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কে কাকে ঘর দিয়েছে জানি না। কার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, কে টাকা তুলেছিল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ। ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে কোনোক্রমে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
অন্যদিকে, এপ্রসঙ্গে জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, যারা এভাবে লুটপাট করে, চুরি করে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেছে, রাজ্যে পালাবদলের পর সেই চোরেদের বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠছে, তাই এই ডিম থেরাপি। তবে, এই ধরনের চোরেদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত এবং যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করে তাদের শ্রীঘরে পাঠানো উচিত।