নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ব্যান্ডেল স্টেশন এলাকায় থাকা একটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার স্টেশন রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশ। দিনের ব্যস্ত সময়ে স্টেশনের সামনে বিক্ষোভের জেরে নাজেহাল হন নিত্যযাত্রীরা। রেলের দাবি, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রেলের জায়গায় ওই স্কুলটি চলছিল। সে কারণেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ব্যান্ডেল রেল ইয়ার্ডের পাশে গত ৪২ বছর ধরে ওই বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলটি চলছে। কয়েক দশক আগে ওই জায়গায় অন্য একটি স্কুল ছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে এই বেসরকারি স্কুলটি তৈরি হয়। ন্যূনতম ফি দিয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা এখানে পড়াশোনা করতে পারত। পড়াশোনার মানও যথেষ্ট উন্নত বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু রেলের জায়গার মধ্যে থাকা এই স্কুলের কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ব্যান্ডেল স্টেশনের আধুনিকীকরণের জন্য স্কুল তুলে দিতে হবে বলে কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিয়েছিল রেল দপ্তর। তারপরও স্কুলটি চালু থাকায় সম্প্রতি রেলের তরফে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে এদিন সকালে ব্যান্ডেল স্টেশনের সামনে রাস্তা অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলে। ফলে তীব্র যানজট তৈরি হয় ওই এলাকায়। ট্রেন ধরতে বহু যাত্রীকে রীতিমতো ব্যারিকেড টপকে প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি অনেক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকেও ঘুরপথে যেতে হয়েছে। নিত্যযাত্রী মিতালি দাস বলেন, ‘স্কুল বন্ধ করে দিলে হয়তো বহু পড়ুয়ার ক্ষতি হবে। স্থানীয়দের দাবি অবশ্যই ন্যায্য। কিন্তু এভাবে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়।’
রেলের জমিতে থাকা স্কুলের যে বৈধ নথি নেই, তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সুবোধচন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘গত ৪২ বছর ধরে রেলের জায়গায় এভাবেই স্কুলটি চলছে। এতদিন তো রেলের সমস্যা ছিল না। স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে মাঝপথে পড়ুয়ারা অন্য স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।’ অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে যথেষ্ট ভালো পড়াশোনা হয়। খুব কম খরচে সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন তাঁরা। এভাবে স্কুল বন্ধ করা যায় না। স্থানীয় দেবানন্দপুর পঞ্চায়েতের তরফে এদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ ওঠে। যদিও রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যান্ডেল স্টেশন চত্বরে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। তাই রেলের জমিতে বেআইনিভাবে চলা ওই স্কুলকে উঠে যাওয়ার জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। স্কুল বন্ধের বদলে নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াদের ভর্তি নিয়ে পঠন-পাঠন চলছে। তাই বাধ্য হয়ে ফের নোটিস দিয়ে স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র