নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণগঞ্জে গলায় কুপিয়ে যুবককে খুনের ঘটনায় পুলিশ তাঁর স্ত্রীর প্রেমিক জয়ন্ত পালকে গ্রেপ্তার করল। এর আগে খুনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জয়ন্তর মা যমুনা পালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন তাঁর স্বামী প্রদীপ দুর্লভ। অভিযোগ, সেই আক্রোশেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে স্ত্রীরই প্রেমিক ও তার মা। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জয়ন্তকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। তার মাকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃত জয়ন্তকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবক প্রদীপ দুর্লভ কৃষ্ণগঞ্জের গেদে মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি নির্মাণ শিল্পের স্যাটারিং এর কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। কাজের সূত্রে দীর্ঘ সময় তাঁকে বাড়ির বাইরে থাকতে হত। অভিযোগ, সেই সুযোগে প্রতিবেশী যুবক জয়ন্তর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই গত কয়েক মাস ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে দাবি মৃত যুবকের আত্মীয়দের।
জানা গিয়েছে, প্রদীপবাবু সোমবার রাতে জয়ন্ত সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ফোনে কথাবার্তা শুনতে পান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। সেসময় ফোনে জয়ন্তের সঙ্গেও প্রদীপবাবুর বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে বিড়ি কিনতে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন প্রদীপবাবু। অভিযোগ, সেই সময় জয়ন্ত ও তার মা যমুনা পাল তাঁকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলায় কোপ মারে বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রদীপবাবুকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক প্রদীপবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।



