নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের ঘটনায় বিরল সৌজন্য দেখালেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে হাসপাতালে গিয়ে দেখে এল তাদের প্রতিনিধি দল। ফুলের স্তবক দিয়ে তারা শুভকামনাও জানিয়েছে উপাচার্যকে। ওই দলে ছিলেন দেবার্ঘ্য যশ, অভিনব বসু, অনুজ্ঞা রায়রা। অবশ্য এটা আন্তরিকতা না কৌশল সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। এদিন ভাস্করবাবু জানিয়েছেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেননি। পুলিসও তাঁকে জিজ্ঞেস করেছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কি না। তবে তিনি না করে দেওয়ায় পুলিস হতাশ হয়ে চলে গিয়েছে। ফলে, যাদবপুরে উপাচার্য এবং ছাত্রদের মধ্যে বরফ গলছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
নিগৃহীত অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রও কারও নামে অভিযোগ জানাতে চাননি। ২৫ মিনিট ধরে পুলিস খুঁটিয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চায়। তবে, তিনি ছাত্রদের নামে কিছু বলতে চাননি। তিনি এও জানান, তাঁর গাড়ি কাউকে চাপা দেয়নি। এদিকে, জখম ছাত্র ইন্দ্রানুজের বাবা অমিত রায় জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেকে পুলিস এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে, সেসবই রুটিন এনকোয়ারি। সেদিন কী ঘটেছিল, কেন তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির সামনে গিয়েছিলেন, কী দাবি ছিল—এসব প্রশ্ন পুলিসের তরফে করা হয়েছে। অন্যদিকে, যাদবপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে। তিনি বলেন, ‘পুলিসের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও করব। তবে, শুধু আমাদের ডাকা হচ্ছে, এদিকে তৃণমূলের বহিরাগতদের, গাড়ি চাপা দেওয়া শিক্ষামন্ত্রীকে ডাকা হচ্ছে না।’
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনৈক শুভম রায় আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের একাংশের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র চার্জ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে থাকা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ গ্রহণ করুক পুলিস। এদিকে, বেশ কিছু আন্দোলনকারীও কিছুটা চাপে আছেন বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ তোলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি করেছেন যাদবপুরের টিএমসিপি নেতা কিশলয় রায়। টিএমসিপি শিবিরের বক্তব্য, যে উপাচার্যকে নিজেরা হেনস্তা করল, তাঁর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দিল, তাঁর অসুস্থতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল, তাঁকেই গিয়ে ফুল দিচ্ছে। এতেই বোঝা যায় তারা কতটা চাপে।