শান্তিপুরে যুবকের রহস্যমৃত্যু খুনের অভিযোগে বিক্ষোভ
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট: শান্তিপুর বাগদেবী মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে সুপরিকল্পিত খুন বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের সামনেই দেহ আগলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত যুবকের নাম কালু শেখ। আনুমানিক বয়স ৪০ বছর। তার বাড়ি শান্তিপুর ভোলাডাঙ্গা এলাকায়।

Advertisement

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে কালু শেখ বাগদেবী মন্দির সংলগ্ন বিশু হালদারের একটি জমিতে কৃষিকাজ করতে এসেছিলেন। বেলা বাড়ার পর কালু শেখের দাদা সাবের আলি শেখ ওই মাঠে কাজে যান। মাঠে পৌঁছে তিনি ব্যবসায়ী বিশু হালদারকে তার ভাইয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেই সময় অভিযুক্ত বিশু হালদার তাকে জানান যে, কালু নাকি পুকুরে ডুবে গিয়েছে। এই কথা শুনে মৃত যুবকের দাদা বিষয়টি বাড়িতে ও স্থানীয়দের জানানোর জন্য সেখান থেকে চলে আসেন।
পরবর্তীতে মৃত যুবকের দাদা যখন আবার ওই পুকুরের কাছে ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখতে পান যে, পুকুরপাড়ে তার ভাইয়ের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বিশু হালদার উপস্থিত ছিলেন না। তারপর থেকেই তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনা থেকে মৃতের পরিবারের সন্দেহ আরো দানা বাঁধে যে, বিশু হালদারই তাকে খুন করে পুকুর পাড়ে ফেলে পালিয়েছে। শুধু তাই নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই এলাকায় অভিযুক্ত বিশু হালদারের একটি অবৈধ মদের ব্যবসাও চলত।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজন। এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অবিলম্বে খতিয়ে দেখে, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে, শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। দেহটি ঘিরে রেখে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করা হয় এবং পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। পুলিশের আশ্বাসের পরেই অবরোধ তুলে নেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এরপর শান্তিপুর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ময়না তদন্তের রিপোর্ট ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে সেই অপরাধীদের শাস্তি হবে।  খুনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। নিজস্ব চিত্র