নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: জোর করে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হল বেলঘড়িয়ার এক যুবক। অনন্ত মহান্তি নামের ওই যুবককে রাস্তায় ফেলে ইট, ধারালো অস্ত্র এবং বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘড়িয়া থানার অন্তর্গত কামারহাটি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাখির খাঁচা অঞ্চলে। এই ঘটনায় ব্যাপক চঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ২২ বছরের যুবক অনন্ত মহান্তি শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এলাকায় ঢুকতেই তাঁর কাছে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায় একদল যুবক। ওই যুবক তা দিতে অস্বীকার করে, এমনকী এলাকায় অসামাজিক কাজকর্মের প্রতিবাদও করে সে।
অনন্ত’র মায়ের অভিযোগ, এরপরই তাঁকে বাইক থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। তাঁকে ইট ও বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় ক্রমাগত আঘাত করা হয়েছে। এমনকী তাঁর মাথা নর্দমার পাঁকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসেন, ছুটে আসেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা। এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই দুষ্কৃতীরা অঞ্চলে মদ্যপান করে। পুজো আসলেই শুরু হয় চাঁদার জুলুমবাজি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করেও কোনও সুফল হয়নি। অভিযোগের তির জেলবন্দি জয়ন্ত সিংয়ের একদা শাগরেদ রোহিত সিং, সৌরভ, সায়ন, ওম, অগ্নিভোগ, দেবপ্রিয়, তন্ময় নামে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বেলঘরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অনন্তের মা জয়ন্তী মহান্তি।
তাঁর দাবি, কামারহাটি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপ নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করেছে তাঁর ছেলে। এবার গণেশ পুজোর জন্য ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এভাবে মারধর করেছে রোহিতের দলবল। শুক্রবার রাতের ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন আক্রান্ত যুবকের পরিবার। পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি শিশুদের পার্ক রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত নামলেই সেখানে মদ, গাঁজার আসর বসে। পুলিস প্রশাসন একেবারে নির্বিকার। যদিও কামারহাটি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অর্পিতা ঘোষ দাবি করেছেন, তিনি সমাজ মাধ্যম থেকে ঘটনা জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুলিস প্রশাসনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেলঘরিয়া থানার পুলিস। তবে মারধর এবং জোর করে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন বলে অভিযুক্ত রোহিত সিং জানিয়েছেন।