নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাস্তার মাঝখানে আচমকা অটো থামানোয় প্রতিবাদ করেছিলেন এক বাইকচালক। তাঁর ‘স্পর্ধা’ দেখে প্রথমে হম্বিতম্বি শুরু করে অটোচালক। তারপর একরত্তি ছেলে ও ভাগ্নির সামনে বাইকচালককে রড দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিল অটোর চালক। পাশাপাশি বেধড়ক মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে খড়দহ থানার টাটাগেট এলাকায় এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন দীপেন মণ্ডল। তিনি টিটাগড় বিবেকনগরের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ভরত রাজভর নামের ওই অটোচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি টিটাগড়ের ফাঁকিঘাট এলাকায়। অটোচালকদের একাংশের ‘দাদাগিরি’ ক্রমশ বাড়তে থাকায় পথচারী ও নিত্যযাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপেনবাবু এদিন সকালে তাঁর সাত বছরের ছেলে ও ১১ বছরের ভাগ্নিকে নিয়ে আঁকার ক্লাসে গিয়েছিলেন। ক্লাস শেষে বেলা ১১টা নাগাদ তিনি তাদের নিয়ে বি টি রোড ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। বারাকপুরগামী লেনে টাটাগেটের কাছে আচমকা অটোটি ফাঁকা রাস্তায় ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। দীপেনবাবু ছিলেন অটোর ঠিক পিছনে। কোনওমতে গতি সামলে বাইক দাঁড় করান তিনি। এভাবে অটো দাঁড় করানোর প্রতিবাদ করলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে অটোচালক। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি অটোর সিটের নীচে থেকে রড বের করে দীপেনবাবুর মাথায় ও বুকে বেশ কয়েকবার মারে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারাই ওই অটোচালককে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে খড়দহ থানার পুলিস এসে অটোচালককে আটক করার পাশাপাশি অটোটি বাজেয়াপ্ত করে। দীপেনবাবু বলেন, স্থানীয়রাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। যেভাবে মাঝরাস্তায় অটো দাঁড় করিয়েছিল, তাতে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতাম। প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্য রাস্তায় লোহার রড দিয়ে হামলা চালায় সে।
বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (মধ্য) ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, তদন্ত চলছে।