Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোন পোকা বা গাছের মূলে মিলবে প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেট, তথ্য সেনাকে

দুর্গম জঙ্গলে বেঁচে থাকার কৌশল নিয়ে গবেষণা জেডএসআইয়ের

কোন পোকা বা গাছের মূলে মিলবে প্রোটিন-কার্বোহাইড্রেট, তথ্য সেনাকে
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেঘালয়, মণিপুরের দুর্গম জঙ্গল, মরুভূমি বা তুষারাবৃত সিয়াচেন। সর্বত্রই প্রবল বিক্রম দেখিয়ে মোতায়েন থাকে ভারতীয় সেনা। সেসব অঞ্চলে খাদ্যের উৎস বলতে সরকারি রেশন। তবে, কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধপরিস্থিতিতে যদি সেই রেশন বন্ধ হয়ে যায়? সেক্ষেত্রে স্থানীয় পশুপাখি, পোকামাকড়, ফলমূল বা লতাপাতাই ভরসা। হিমালয়ে পর্বতমালা ও তার বিস্তীর্ণ গহীন জঙ্গলে কী কী খাওয়া যায়, তা সেনাবাহিনীর হয়ে বাছাই করে দেবে জুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জেডএসআই)।

Advertisement

বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে ১১০ বর্ষপূর্তি সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য দিয়েছেন জেডএসআইয়ের অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি ট্রেনিং কমান্ডের অধীনে রয়েছে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অ্যান্ড জঙ্গল ওয়ারফেয়ার স্কুল। দুর্গম জঙ্গলে লড়াই চালানোর জন্য সেনা জওয়ান ও আধিকারিকদের প্রস্তুত করে তোলা হয় এই প্রতিষ্ঠানে। তাদের হয়েই এই কাজ করবে জেডএসআই। অধিকর্তা এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা বলেন, ভোজ্য বা খাওয়া সম্ভব এমন গাছপালা বা প্রাণীজ ভাণ্ডারে দাঁড়িয়ে হয়তো জ্ঞানের অভাবে আনকোরা কেউ উপোষে শুকিয়ে যেতে পারেন। আবার স্থানীয়রা এসব নিয়ে ওয়াকিবহাল বলে একই পরিস্থিতিতে বেঁচে যেতে পারেন। এই কারণেই অনেক সময় উত্তর-পূর্বের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি সফলভাবে রেশন ছাড়াই অনেক সময় লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনও গাছের কন্দ হয়তো দিনের কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারে। কোনও প্রাণী বা ফল প্রোটিন বা ফ্যাটের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবে খাওয়া যায় বলেই খেয়ে নেওয়া যাবে এমন নয়। কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদের বিশেষ অংশে থাকতে পারে বিষ। তা খেলে মৃত্যু নিশ্চিত। অথচ বাকি অংশ খাওয়া যায়। মৃত্যু না হলেও অনেক খাবার থেকে অ্যালার্জিও হতে পারে। তাই হিমালয়ের কোলে থাকা প্রাণী ও উদ্ভিদের পুষ্টিগুণ, সেগুলির বিপদ প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনীকে রিপোর্ট দেবে জেডএসআই।
ভোজ্য প্রাণী এবং উদ্ভিদ চিহ্নিত করে দিলে সেগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে না? বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজাদ হিন্দ ফৌজের পতনের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া। হয়তো এই ধরনের সার্ভাইভাল স্ট্র্যাটেজি থাকলে তাঁরা আরও কিছুদিন লড়াই করতে পারতেন। এমন নয় যে, পাহাড় বা জঙ্গলে সবসময় সেনাকেই খাবার খুঁজে খেতে হয় সবসময়। এ ধরনের ঘটনা কালেভদ্রে ঘটতে পারে। তাও প্রস্তুত থাকাই ভালো। প্রসঙ্গত, গত এক বছরে ভারতে আবিষ্কার হওয়া ৬০০টিরও বেশি নতুন প্রাণীর তথ্যভাণ্ডার ৩০ জুন প্রকাশ করবে জেডএসআই। ১ থেকে ৩ জুলাই অ্যানিম্যাল ট্যাক্সোনমি সামিট ২০২৫ আয়োজন করবে এই কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

সম্পর্কিত সংবাদ