নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ভেঙে তৈরি হবে সুন্দরবন ও বসিরহাট নামে দুই নতুন জেলা। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ভেঙে তৈরি হবে সুন্দরবন ও বসিরহাট নামে দুই নতুন জেলা। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
সুন্দরবন ও বসিরহাট এলাকার মানুষের আলাদা জেলার দাবি বহুদিন ধরেই ছিল। এবার তা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। নয়া দুই জেলায় কোন কোন এলাকা ঢুকবে তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আড়াই বছর বাদে লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই কি নতুন দুই জেলা গঠন হয়ে যাবে? তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বসিরহাট মহকুমা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চল। এই মহকুমার বড়ো অংশ নদী-খাল বেষ্টিত। হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, সন্দেশখালির বহু গ্রাম অবস্থানগত দিক থেকে কার্যত দ্বীপের মতো। প্রশাসনিক কাজ, সরকারি পরিষেবা কিংবা অন্যান্য সমস্যা সমাধানে মানুষকে যেতে হত বারাসতে। জলপথ ও সড়কপথ মিলিয়ে দীর্ঘ যাত্রাপথ। ফলে একদিকে সময় অন্যদিকে অর্থ ব্যয় হত। প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে নষ্ট হত দিনের পর দিন। নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের জন্য যাত্রাপথ ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বহুবছর ধরেই বসিরহাটকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উঠেছিল। তা এবার সম্পন্ন হতে চলেছে। যদিও এর আগে বসিরহাট পৃথক পুলিশ জেলা এবং স্বাস্থ্য জেলা হিসেবে স্বীকৃত। তারপর প্রশাসনিক জেলা ঘোষণার দাবিও জোরদার ভাবে উঠতে শুরু করে। প্রস্তাবিত বসিরহাট জেলার আওতায় বসিরহাট-১ও ২, সন্দেশখালি-১ ও ২, মিনাখাঁ, হাড়োয়া, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, স্বরূপনগর এবং বাদুড়িয়া ব্লক অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পৃথক জেলা হলে সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ সরকারি পরিষেবা সহজে পাবেন বলেও অনুমান।
এরকমই পরিস্থিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের। ক্যানিং ও কাকদ্বীপ মহকুমা মিলিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল। এখানকার মানুষদেরও প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য যেতে হয় অনেক দুরে, আলিপুরে। গোসাবা এবং পাথরপ্রতিমা ব্লক নদীবেষ্টিত অঞ্চল। কুমিরমারি এবং জি প্লট এই দুই জায়গার শেষপ্রান্তে অবস্থিত। সেখানকার মানুষদের জেলার সদর কার্যালয় পর্যন্ত আসতে একাধিক নদী পেরতে হয়। তারপর আবার সড়ক কিংবা রেলপথে পৌঁছাতে হয় আলিপুর। সুন্দরবন জেলা হিসাবে ঘোষণা হলে এই এলাকার মানুষেরর প্রচুর সুবিধা হবে। এখানেও প্রশ্ন, কোন অঞ্চল নিয়ে এই জেলা তৈরি হবে? কারণ এর আগে যখন সুন্দরবন জেলার ঘোষণা হয়েছিল তখন কাকদ্বীপ মহকুমার চারটি ব্লক, কুলপি এবং মথুরাপুরের একটি ব্লককে এর মধ্যে আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। তবে সে কাজ এগয়নি। রাজ্যে নয়া সরকারের বাজেটে সুন্দরবন ও বসিরহাট জেলা তৈরির প্রস্তাবের পর মানুষের আশা এবার শীঘ্র এ সংক্রান্ত কাজকর্ম শুরু হবে।
নতুন জেলার প্রস্তাবের পর বসিরহাট ও সুন্দরবনজুড়ে খুশির আবহ। মানুষের বক্তব্য, ‘শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বহুবছরের বঞ্চনা ও দুর্ভোগের অবসানের সূচনা।’ তবে শুধু ঘোষণাতেই সন্তুষ্ট হচ্ছে না মানুষ। উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা শিক্ষক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার সবরকম প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করুক। নতুন জেলার কার্যক্রম তাড়াতাড়ি চালু করতে হবে। প্রশাসনিক ভবন, জেলা শাসকের কার্যালয়, বিভিন্ন দপ্তর ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ দ্রুত শুরু হোক।’ রত্নদ্বীপ মিশ্র নামে এক শিক্ষকের বক্তব্য, ‘সুন্দরবনের মানুষকে আর কষ্ট করে কলকাতায় যেতে হবে না। ফলে কাজের গতি আসবে।’