Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আরবান ল্যান্ড সিলিং’ আইন আদৌ প্রয়োজন কি না, পর্যালোচনার প্রস্তাব, বিনিয়োগ টানতে ইনসেন্টিভ ফেরানোর ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গে আরবান ল্যান্ড সিলিং আইন পর্যালোচনা, বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন প্রস্তাব। ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা। বিস্তারিত পড়ুন।

‘আরবান ল্যান্ড সিলিং’ আইন আদৌ  প্রয়োজন কি না, পর্যালোচনার প্রস্তাব, বিনিয়োগ টানতে ইনসেন্টিভ ফেরানোর ঘোষণা
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা দেশে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই লাগু হয়ে রয়েছে ‘আরবান ল্যান্ড সিলিং পলিসি’। যা শহরকেন্দ্রিক বিনিয়োগ বা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরএলাকায় ৫০০ থেকে ২০০০ বর্গমিটার ফাঁকা জমি থাকলে, তা এই আইনের আওতায় পড়ে যায়। ফলে এই জমি খাস হয়ে যাওয়া এড়াতে এবং এই জমিতে বিনিয়োগ করতে দৌড়তে হয় সরকারি ছাড়পত্রের জন্য। লাল ফিতের এই ফাঁস খুলতে এই আইনের প্রয়োজনীতা আদৌ রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হল সোমবারের রাজ্য বাজেটে। একই সঙ্গে শিল্পায়নের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে এনওসি’র বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রুত এই অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পুর্বতন সরকারের আমলে তুলে দেওয়া শিল্প উৎসাহ ভাতা (ইনসেন্টিভ) ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব পেশ করল শুভেন্দু’র সরকার।    

Advertisement

অন্যদিকে, ১৯৬৩ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দোকান, রেস্তরাঁ, অফিস, লজিস্টিক এবং হোটেল পরিষেবা ২৪ ঘণ্টা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে দোকান খোলা যায় না। যার ফলে বাণিজ্যিক পরিকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার হয় না এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত থাকে। নতুন সংস্কারের মাধ্যমে সেই বাধা দূর করে ২৪ ঘন্টা অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নীতি কার্যকর হলে কলকাতা এবং অন্যান্য বড়ো শহরে প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা চালু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা লাগু হবে গোটা রাজ্যে।  একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে উপযুক্ত শ্রম আইন সংশোধনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।  
আবার শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করে ৫,০০০ কোটি টাকার এআই ও নতুন প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্যাকেজ, ১,০০০ কোটি টাকার ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুনরুজ্জীবন প্রকল্প এবং ২০০ কোটি টাকার ‘বাংলার উদ্যম ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। এই কার্ডের অধীনে ২ লক্ষ যুবক-যুবতী সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন।
এছাড়া দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট, বাঁকুড়া ও বীরভূমে প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র এবং কলকাতায় গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার চালুর কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রযুক্তি ও গবেষণায় অগ্রগতির লক্ষ্যে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইমপ্যাক্ট এআই মিশন’ চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। যার বিস্তারিত রূপরেখা আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া অব্যবহৃত শিল্পজমি পুনরুদ্ধার করে ‘ডায়ানামিক স্টেট ল্যান্ড ব্যাংক’ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। 
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন স্টার্ট আপ পলিসি আনবে রাজ্য। এর আওতায় ৪০ কোটি টাকার ইনকিউবেশন ফান্ড এবং ৬০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি গোশালার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে ভরতুকি স্কিমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ