নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিসে যুগ্ম কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার দুটি নতুন পদ তৈরির প্রস্তাব গিয়েছে নবান্নে। এই নতুন দুটি পদ হল, যুগ্ম কমিশনার (সাইবার) এবং যুগ্ম কমিশনার (লিগ্যাল)। শনিবার পাটুলিতে কলকাতা পুলিসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই খবর জানিয়েছেন পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা। লালবাজার সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি লালবাজার এই সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রস্তাব নবান্নে পাঠিয়েছে। সিপি আশাবাদী আগামী ক্যাবিনেট মিটিংয়ে এই দুই পদের অনুমোদন মেলার বিষয়ে। তারপরই এই দুই পদে নতুন আইপিএস অফিসার পোস্টিং হতে চলেছে। হঠাৎ করে কেন এই দুটি পদ তৈরির প্রস্তাব দিল লালবাজার? সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ২০২৪ সালে কলকাতার বাসিন্দারা মোট ২৭৩ কোটি টাকা খুইয়েছেন সাইবার অপরাধীদের পাল্লায় পড়ে। গোটা দেশের মতোই লালবাজারের উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে সাইবার ক্রাইম নিয়ে। এতদিন ডিসি পদমর্যাদার অফিসার দিয়ে কাজ চললেও, এবার যুগ্ম কমিশনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে হয়েছে লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের। অন্যদিকে, আর জি কর কাণ্ডের শুনানি চলাকালে আদালতে বারেবারে আইনি ইস্যুতে অপ্রস্তুত হতে হয়েছে কলকাতা পুলিসকে। এবার তাই যুগ্ম কমিশনার (লিগাল) পদ তৈরি করতে চাইছে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে সমস্ত কলকাতা পুলিসের লিগাল উইংকে এক ছাদের নীচে আনা হতে পারে। উল্লেখ্য, শহরে সাইবার ক্রাইমের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা বর্তমান সাইবার থানাকে ঢেলে সাজতে একটি লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। ওই নির্দেশিকায় এক ধাক্কায় সাইবার থানার পুলিসকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫০ করার পাশাপাশি বর্তমান সাইবার থানাকে ছ’টি উইংয়ে ভাগ করতে বলেন। যা ইতিমধ্যে কার্যকর করেছেন ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার। কলকাতা পুলিসের পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, নবান্ন যুগ্ম কমিশনার (সাইবার) পদের অনুমোদন দিলে, ডিআইজি পদমর্যাদার কলকাতা পুলিসের জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) পদটি আইজি পদমর্যাদার অতিরিক্ত পুলিস কমিশনার পদে উন্নীত হতে পারে।



