নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রতিবছর বর্ষায় নদনদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নদীতে থাকা কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাইক, সাইকেল নিয়েও বাসিন্দারা যাতায়াত করতে পারেন না। তারফলে ঘুরপথে তাঁদের যেতে হয়। সমস্যা সমাধানে বাঁকুড়ার মিনাপুর, মানকানালি ও কেঞ্জাকুড়ায় সেতু তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। সম্প্রতি জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে বিধায়ক সংশ্লিষ্ট জায়গায় থাকা কজওয়েগুলি পরিদর্শন করেছেন। আগের সরকারের আমলে ওই তিন সেতু নিয়ে বিস্তর চর্চা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে তা দ্রুত নির্মাণ হবে বলে বাসিন্দারা আশা করছেন।
বিধায়ক বলেন, বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গন্ধেশ্বরী নদী ও দ্বারকেশ্বর নদে আমরা তিনটি সেতু নির্মাণ করতে চাই। মিনাপুর থেকে আড়ালবাঁশি, মানকানালি ও কেঞ্জাকুড়ায় ওই সেতুগুলি তৈরি হবে। কেঞ্জাকুড়ায় সেতু তৈরি হলে বাঁকুড়া ও ছাতনা বিধানসভার মধ্যেও যোগাযোগ স্থাপন হবে।
জেলাশাসক বলেন, সেতুগুলি নির্মাণের জন্য সেচদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন। আমরা এস্টিমেট তৈরি করে সেচদপ্তরে পাঠাব। ছোটো কাজ হলে সেচদপ্তরই প্রকল্প রূপায়ণ করে। তবে বড়ো কোনো সেতু নির্মাণের জন্য পূর্ত দপ্তরের হাতে তা দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়। রাজ্যস্তরে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলার মধ্যে বহু নদনদী ও খালবিল রয়েছে। সারাবছর ওইসব নদনদী ও খালে জল থাকে না। তবে বর্ষায় হঠাৎ জলস্তর বৃদ্ধি পায়। নদীগুলি কানায় কানায় বইতে থাকে। জেলার পশ্চিমাঞ্চলে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। মানকানালিতে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর থাকা কজওয়েটি কয়েকবছর আগে ভেঙে যায়। পরে তা জেলা পরিষদের টাকায় সংস্কার হয়েছিল। কিন্তু প্রবল জলের স্রোতে তা ফের ভেঙে পড়ে। বাঁকুড়া-২ ব্লকের মানকানালিতে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার নিয়েছিল। রাজ্য গ্রামোন্নয়ন সংস্থার ডিপিআর তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু, ওই কাজ শুরু হয়নি। বাঁকুড়া শহরের মিনাপুর ও বাঁকুড়া-১ ব্লকের আড়ালবাঁশির মধ্যে কজওয়ে থাকলেও তার মান ভালো নয়। প্রতিবছর বর্ষায় সেটি জলের তলায় চলে যায়। তখন আড়ালবাঁশি ও লাগোয়া এলাকার লোকজনকে রাজগ্রাম অথবা এক্তেশ্বরের জাতীয় সড়কের সেতু হয়ে ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। কেঞ্জাকুড়াতেও দ্বারকেশ্বর নদের উপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ওই সেতু তৈরি হলে বাঁকুড়ার সঙ্গে ছাতনার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যাবে। কেঞ্জাকুড়াবাসীর সুবিধার পাশাপাশি ছাতনার বাসিন্দাদেরও যাতায়াত সমস্যা লাঘব হবে।
মিনাপুর কজওয়ে পরিদর্শনে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা ও জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত। -নিজস্ব চিত্র