নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার তিলক নগর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন বহুকাল বন্ধ। পড়ুয়া নেই। শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী নেই। ভবনটি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কার্যত ভুতুড়ে বাড়ি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় দু’দশক। কেএমডিএ’র তৈরি এই স্কুল অন্য কাজে ব্যবহারের দাবি উঠেছে। এই এলাকা এবং আশপাশ অঞ্চলে কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য সরকারি বা বেসরকারি মিলিয়ে একাধিক স্কুল আছে। কিন্তু ওয়ার্ডে নেই কমিউনিটি হল। এবার শিশু কল্যাণ বিদ্যালয়ের জায়গায় কমিউনিটি হল তৈরির দাবি উঠেছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোডের পাশে তিলক নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় তিন কাঠা জমিজুড়ে তৈরি হয়েছিল। স্থাপিত ১৯৬৯ সালে। দোতলা বাড়িটি পাকাপাকিভাবে তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে। তখন সিএমডিএ (বর্তমানে কেএমডিএ) তৈরি করেছিল।
জানা গিয়েছে, এই সরকারি স্কুলটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হতো। স্কুলের শেষ প্রধানশিক্ষিকা ২০০৫ সালে অবসর নেন। এরপর স্কুলে কোনও কাজকর্ম হতো না। তারপর বাড়িটি পাঠ্য বই বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছনোর পর কমিশন নির্বাচনী কেন্দ্র ২০০৯ সালে স্থানান্তরিত করে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা গোকুল নন্দন ভৌমিকের কথায়, বাড়িটি বহু বছর ধরে এমন ‘ভূতের বাড়ি’ হয়ে পড়ে আছে। সাপ-বেজির আস্তানা হয়ে গিয়েছে। অনেক অংশ ভেঙে গিয়েছে। আশপাশের বাসিন্দারা ভেঙে পড়ার ভয় পাচ্ছেন। জায়গাটি নিয়ে সরকারের ভাবা উচিত।
৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন দাশগুপ্ত বলেন, এই অবস্থায় কমবেশি তিন কাঠা মূল্যবান সরকারি জমি পড়ে রয়েছে। আবর্জনা জমে থাকে। বন্ধ বলে পরিষ্কার করানোর সমস্যা আছে। জায়গাটি সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের জন্য অনেকদিন ধরেই তিলকনগরের বাসিন্দারা দাবি জানাচ্ছেন। পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। এই অঞ্চলে একটিও কমিউনিটি সেন্টার নেই। তাই এখানে জনস্বার্থে একটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার হতে পারে। পুরসভাকে প্রস্তাব দিয়েছি।