Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন করে ঠিক হবে শহরে সম্পত্তি করের হার, কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডের ‘বেস ভ্যালু’ পুনর্নিধারণে নয়া ‘কমিটি’

নতুন করে ঠিক হবে শহরে সম্পত্তি করের হার, কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডের ‘বেস ভ্যালু’ পুনর্নিধারণে নয়া ‘কমিটি’
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ই এম বাইপাসের ধারে তপসিয়া, ভিআইপি বাজার, মুকুন্দপুর, কালিকাপুর, কসবা হোক বা নেতাজিনগর, আজাদগড়ের মতো অঞ্চল—বছর পাঁচ-ছয় আগে এসব এলাকার যা বাজারমূল্য ছিল, এখন তা অনেকটাই বেড়েছে। আর্থিক সচ্ছলতা, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদির নিরিখে এখন এসব এলাকা টেক্কা দেবে কলকাতার যে কোনও অভিজাত অঞ্চলকে। গত কয়েক বছরে এসব এলাকার হালচাল আমূল বদলে গেলেও বদলায়নি সম্পত্তি করের হার। সাত বছর আগে (২০১৭) সম্পত্তির স্বমূল্যায়ন বা সেলফ অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে যে ‘বেস ইউনিট এরিয়া ভ্যালু’ ধার্য হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এখনও সম্পত্তি কর দিয়ে চলেছেন নাগরিকরা। গত ছ’-সাত বছরে শহরের বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন ও পরিকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে বাজারমূল্যও বেড়েছে। কিন্তু আগের মতোই কম রয়ে গিয়েছে ‘বেস ভ্যালু’। নতুন করে কাউকে ‘ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্ট’-এর আওতাভুক্ত  করতে গিয়ে আধিকারিকরা দেখছেন, আগের তুলনায় সম্পত্তি করের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ‘অ্যানুয়াল রেন্টাল ভ্যালুয়েশন মেথড’-এ (জেনারেল রিভ্যালুয়েশন) যে পরিমাণ সম্পত্তি কর পাওয়া যাচ্ছিল, ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্ট করায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির করের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন করে ইউনিট এরিয়ার  ‘বেস ভ্যালু’ পুনর্বিন্যাসে নতুন করে মিউনিসিপাল ভ্যালুয়েশন কমিটি তৈরি করার উদ্যোগ নিল কলকাতা পুরসভা। যদিও আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, আইন অনুযায়ী ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্টে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একটি কমিটি তৈরি করে রি-ভ্যালুয়েশন করা হয়। 

Advertisement

সম্প্রতি এই কমিটি তৈরিতে সিলমোহর দিয়েছে পুরসভার মেয়র পরিষদ। এবার নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মিললে ভ্যালুয়েশন কমিটি তৈরি হবে। ১ থেকে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য এই ভ্যালুয়েশন কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। আধিকারিকরা অবশ্য জানাচ্ছেন, এটা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ২০১৭ সালে শেষবারের মতো এমন কমিটি তৈরি করে ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্ট চালু হয়েছিল। নয়া পদ্ধতি লাগু করতে করতেই লেগে যায় আরও প্রায় দু’বছর। এক্ষেত্রেও সময় লাগবে।
বর্তমানে কলকাতার ১ থেকে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিভিন্ন ব্লক ও ক্যাটিগরিতে বিভক্ত। মোট সাতটি (এ থেকে জি) ব্লক ও ক্যাটিগরি রয়েছে। ওয়ার্ডের আয়তন, এলাকার রাস্তার হাল, পরিকাঠামো, আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, জমির বাজারমূল্য ইত্যাদি খতিয়ে দেখে এই ব্লক এবং ক্যাটিগরি ঠিক করা হয়। তারপর প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য ‘বেস ইউনিট এরিয়া ভ্যালু’ নির্ধারিত হয়। পুরসভার এক কর্তা বলেন, পুরনো ওয়ার্ডগুলির ক্ষেত্রে এই ‘ভ্যালু’ নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। পার্ক স্ট্রিট বা ভবানীপুর অঞ্চলের কোনও ওয়ার্ডে আগে যে ‘বেস ভ্যালু’ ছিল, তা স্বভাবতই বাড়বে। বাইপাস সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকা, বেহালা, গড়িয়া, যাদবপুরের মতো বিভিন্ন অঞ্তলে যে হারে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, তাতে এসব জায়গায় ‘বেস ইউনিট এরিয়া ভ্যালু’ বাড়তে বাধ্য। তখন আর নতুন করে কেউ ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্টের আওতায় এলে সম্পত্তি করের পরিমাণ কমে যাবে না। পুরসভারও রাজস্ব হানিও হবে না। নয়া ‘বেস ভ্যালু’ নির্ধারণের পর নোটিস দিয়ে ওই অঞ্চলের নাগরিকদের মতামত জানতে চাওয়া হবে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংযোজন এবং সংশোধন করে চালু হবে সম্পত্তি করের নয়া হার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ