Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সম্পত্তিকর মাসে ৫০০ টাকা, বকেয়া ৪২ বছর, পাওনা মিটিয়ে দিতে দফায় দফায় চিঠি কোন্নগর পুরসভার

সম্পত্তিকর মাসে ৫০০ টাকা, বকেয়া ৪২ বছর, পাওনা মিটিয়ে দিতে দফায় দফায় চিঠি কোন্নগর পুরসভার
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: এক-দুই নয়, কোন্নগর স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৪২ বছর ধরে পুরসভার কাছে সম্পত্তিকর বকেয়া রেখেছে। কোন্নগর পুরসভা দফায় দফায় টাকা মিটিয়ে দিতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু বকেয়া টাকা মেটানো দূর, সৌজন্য দেখিয়ে পাল্টা চিঠি পর্যন্ত দেয়নি রেল কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ। এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের পুরসভা বকেয়ার উল্লেখ করে রেলকে চিঠি দিয়েছে। পুরসভা সূত্রেই জানা গিয়েছে, গত ৪১ বছরের মতো এবারও একমাস পেরিয়ে গেলেও কোনও জবাব রেল দেয়নি। বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে আট লক্ষ ৬৯ হাজার ৯২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রতি তিনমাসের হিসেবে রেলের কাছে মাত্র এক হাজার ৭৮০ টাকা সম্পত্তিকর ধার্য।

Advertisement

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কোন্নগর পুরসভা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেলের ছোট, বড়, মেজ পদমর্যাদার আধিকারিকদের কাছে বকেয়া মিটিয়ে দিতে বারবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু রেল কোনও পদক্ষেপই নেয়নি। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (ভারপ্রাপ্ত) দীপ্তিমান দত্ত যদিও বলেন, ‘রেলের আইনে কোথাও সম্পত্তিকর দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। রেল একটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। রেলের পরিষেবা পাওয়ার তালিকায় কোন্নগর পুরসভার মানুষ ও পুরকর্তারাও রয়েছেন। ভারতের কোনও পুরসভা কখনও রেলের কাছে সম্পত্তিকর দাবি করেনি। পুরকর্তাদের কাছে কোনও আইনের ধারা থাকলে তাঁরা পদক্ষেপ করতেই পারেন।’ কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস পাল্টা বলেন, ‘রেলের মতো পুরসভাও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। রেলে চড়তে গেলে টিকিট কাটতে হয়। সেখান থেকে রোজগার হয়। রেল শুধুই পরিষেবা দেয় তা নয়। তাছাড়া ৪২ বছর ধরে রেলকে সম্পত্তিকর চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তাদের আইনে সম্পত্তিকর দেওয়ার ব্যবস্থা নেই, সে কথা তারা চিঠি দিয়ে বলছেন না কেন? কারণ তারা ওই মর্মে কোনও সরকারি চিঠি দিতে পারবেন না।’ 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন্নগর রেল স্টেশনের পরিকাঠামোর জন্যই রেলের কাছে পুরসভার সম্পত্তিকর পাওনা হয়। আগে রেল করের টাকা দিলেও ১৯৮৩ সালের শুরু থেকেই আর দেয়নি। সে সময় রেলের জন্য প্রতি তিন মাসে এক হাজার ৫৭৫ টাকা কর ধার্য হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি মাসে ৫০০ টাকার সামান্য বেশি। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ওই বাবদ পুরসভার বকেয়া আছে প্রায় সাড়ে বিরাশি হাজার টাকা। যা সুদে আসলে বর্তমানে হয়েছে দু’লক্ষ ৯০ হাজার ৯৭৯ টাকা ৫০ পয়সা। ১৯৯৭ সালে কর সামান্য বাড়িয়ে তিন মাসের জন্য করা হয় এক হাজার ৭৮০ টাকা। সেই সময়ের নিরিখে প্রতিমাসের হিসেবে ১১৫টি কোয়ার্টারের জন্য রেলের কাছে পুরসভার পাওনা দু’লক্ষ চার হাজার ৭০০ টাকা। সুদ ধরে বর্তমানে তা হয়েছে চার লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৯৮ টাকা। দফায় দফায় পুরসভা তাগাদা দিলেও প্রায় সাড়ে আট লক্ষ বকেয়া টাকার একটি পয়সাও কোন্নগর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ পুরসভাকে দেয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ