Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার, বিক্ষোভে উত্তপ্ত হাওড়া

ফের রক্তাক্ত হল হাওড়ার পিলখানা। বুধবার কাকভোরে প্রকাশ্যে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে স্থানীয় প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের (২৭)। মৃতের বাড়ি পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনে।

গুলিতে ঝাঁঝরা প্রোমোটার, বিক্ষোভে উত্তপ্ত হাওড়া
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফের রক্তাক্ত হল হাওড়ার পিলখানা। বুধবার কাকভোরে প্রকাশ্যে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে স্থানীয় প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের (২৭)। মৃতের বাড়ি পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনে। এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী হারুন খান এবং রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বাইকে করে তারা চম্পট দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রোমোটিং ও এলাকা দখলকে ঘিরে পুরানো শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি মাসে উত্তর হাওড়ার ওড়িয়াপাড়ায় দুষ্কৃতীদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলায় গুলি চলার অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিলখানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিকের কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি প্রোমোটিংয়ের ব্যবসাও ছিল। অতীতে খুন ও তোলাবাজির মতো একাধিক মামলায় জেল খেটেছে সে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রোমোটিং নিয়ে হারুনের সঙ্গে তার বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরমে ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, শফিককে সরাতে এলাকার বেআইনি অস্ত্র কারবারি রোহিতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল হারুন। এদিন ভোর সওয়া চারটে নাগাদ স্থানীয় মসজিদে আজান শুরুর ঠিক আগে, বাড়ির কাছে পিলখানা ভাগ্গু মোড়ে দাঁড়িয়েছিল শফিক। আশপাশে আরও কয়েকজন বাসিন্দাও ছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসে হারুন ও রোহিত। হারুন বাইক থেকে নেমে শফিকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। সেই সময় পিছন ফিরে থাকা রোহিত আচমকা পিস্তল বের করে শফিকের মাথা লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শফিক। তারপর হারুনও আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তার বুকে পরপর গুলি চালায়। মোট চারটি গুলি লাগে তার শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে যুবক। স্থানীয় লোকজন কিছু বোঝার আগেই বাইক নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম শফিককে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুলিকাণ্ডের পুরো ঘটনাই ধরা পড়েছে আশপাশের একাধিক দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে।
এই খবর ছড়াতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। চলে আসে হাওড়া সিটি পুলিশের বিশাল বাহিনী। ঘটনাস্থলে আসেন পদস্থ কর্তারাও। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। যদিও রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাদের পাকড়াও করা হবে। পুরানো শত্রুতা থেকেই সম্ভবত গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে।’ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শত্রুতা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, শফিকই আগে হারুনকে খতম করার ছক কষেছিল। স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত হারুনের খোঁজে পিলখানার অলিগলি চষে বেরিয়েছিল শফিক। ভোররাতে সেই খবর রোহিতের কাছ থেকে পেয়ে পালটা হানার সিদ্ধান্ত নেয় হারুন। শফিক বাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে, একথা জানার পর দু’জনই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাইক হাঁকিয়ে যায় সেখানে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনে ব্যবহৃত দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের একটি নাইন এমএম দেশি পিস্তল, অন্যটি অটোমেটিক।

সম্পর্কিত সংবাদ