


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের মৃত্যুকে ঘিরে বুধবার দিনভর অগ্নিগর্ভ থাকল উত্তর হাওড়ার পিলখানা। অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর, জি টি রোড অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, বাইকে অগ্নিসংযোগ, দমকলকে বাধা— দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় হাওড়া সিটি পুলিশকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত জি টি রোডের হাওড়া ময়দান থেকে পিলখানা অংশ অবরুদ্ধ থাকায় বালি ও বেলুড়গামী যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়।
বুধবার ভোরে পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনের বাসিন্দা প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে লক্ষ্য করে স্থানীয় দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুষ্কৃতীরা চম্পট দিতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। সকাল থেকেই মৃতের বাড়ির সামনে গিজগিজে ভিড়। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি ঘোরালো হয় বিকালের দিকে, যখন মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় এলাকায়। অভিযুক্ত দুই দুষ্কৃতী হারুন খান ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। মূল অভিযুক্ত হারুন খান তৃণমূল আশ্রিত বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বিধায়ক বলেন, ‘দুষ্কৃতীদের জায়গা এলাকায় নয়, জেলে। পুলিশ তদন্ত করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এলাকার অনেকেই আসে। কে কেমন, তা আতসকাচ দিয়ে যাচাই করা সম্ভব নয়।’ বিজেপির পালটা দাবি, হারুন খানকে তৃণমূলের একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল এবং সে যুবনেতা হিসাবেও পরিচিত। বিজেপি নেতা উমেশ রাই বলেন, ‘এই ঘটনা তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের ফল। গোটা হাওড়ায় দুষ্কৃতীরাজ চলছে।’
দুপুরে মাদার টোলা লেনে গিয়ে অভিযুক্ত দুষ্কৃতী রোহিতের তালাবন্ধ বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ। পরে পিলখানা মোড় অবরোধ করে টায়ার জ্বালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় র্যাফ। বিকালে মূল অভিযুক্ত হারুন খানের ফাঁকা বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘর থেকে আসবাব রাস্তায় ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, একটি বাইকেও আগুন লাগানো হয়। দমকল কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে আক্রান্ত হন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের এক কর্মী। পরে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় অবশ্য পুলিশ ছ’জনকে আটক করেছে। ধস্তাধস্তিতে পুলিশকে নাকানি-চোবানি খেতে হয়। শেষে সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ফোর্স নামিয়ে টহলদারি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, যদিও জি টি রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।
তবে এদিন গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা মৃত প্রোমোটারের দেহ এলাকাতেই আটকে রাখে। বাসিন্দাদের দাবি, দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে পুলিশকে বড়ো ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। প্রয়োজনে ফের জি টি রোড অবরোধের হুমকি দেন তাঁরা। বাসিন্দাদের আরও দাবি, যে বাইকে চেপে দুই দুষ্কৃতী পালিয়েছে, সেই বাইকটি কার, তাকেও চিহ্নিত করতে হবে।