নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বছরের পর বছর ধরে চর্চা চলছে। হয়েছে মাটি পরীক্ষাও। কিন্তু বাঁশের সেতু কংক্রিটের হয়নি। ফলে বহু বছরের দুর্ভোগকে অভিশাপের মতো বয়ে নিয়ে চলেছেন চণ্ডীতলা ১ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণরামপুর পঞ্চায়েতের ৫০টি পরিবার। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক ভিন্ন জীবনযুদ্ধ প্রতিদিন চালাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কৃষ্ণরামপুরের নলেপাড়ার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে কানা নদী। তার একদিকে নলেপাড়ার জনবসতি, অন্যদিকে রয়েছে ৫০টি পরিবার। একই পাড়ার বাসিন্দা হলেও ওই পরিবারগুলি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে কার্যত বঞ্চিত। কারণ, কানা নদীর উপর স্থায়ী কংক্রিটের সেতু তৈরি হয়নি। প্রয়োজনের সময়ে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। এনিয়ে গ্রামে ক্ষোভের আবহ ক্রমেই চড়া হচ্ছে।
নলেপাড়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের বাসিন্দা সফিউল্লা শেখ, সাফিয়া বেগরা বলেন, বছরের পর বছর ধরে শুনছি পাকা সেতু হবে। কিন্তু সে আর হল কই! এক কিলোমিটারেও কম দৈর্ঘ্যের সেতু না থাকায় আমরা মূলভূমে পরবাসী হয়ে আছি। গ্রামে অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। বাড়ি তৈরির উপকরণ আনতে হলে তা ট্রাকে করে আনা যায় না। খরচ বেড়ে যায়। নলেপাড়ার অন্য অংশে যাতায়াত করাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষ্ণরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা দাস বলেন, কানা নদীর উপরে পাকা সেতু করা প্রয়োজন। তাছাড়া, অ্যাম্বুলেন্স তো বটেই, বাড়ি তৈরির উপকরণ, বাইক নিয়ে যাওয়াও সমস্যার। পাকা সেতু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। নলেপাড়ার বাসিন্দাদের একাংশ সমস্যায় রয়েছে, একথা আমরা পঞ্চায়েত সমিতিকে জানিয়েছি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মলয় খাঁ বলেন, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেতুটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর আমরা নতুন করে বাঁশের সেতু তৈরি করে দিয়েছি। কিন্তু তার উপর দিয়ে ভারী যানবাহন যাতায়াত করা সম্ভব নয়। ফলে, বাসিন্দাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। আমাদের পক্ষেও পাকা সেতু করা সম্ভব নয়। আমরা জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। জেলা পরিষদ পরিদর্শন করেছে। কিন্তু কাজ তেমন অগ্রসর হয়নি। জেলা পরিষদের সেচ কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, আমরা এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। মাটি পরীক্ষার কাজও হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত ওখানে পাকা সেতু তৈরির কাজ শুরু করা যাবে।
চণ্ডীতলা ১ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণরামপুরে নলেপাড়া ২৬ নম্বর সড়ক থেকে সামান্য দূরে। ফলে, যোগাযোগের উন্নত ব্যবস্থা ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সেখানে নলেপাড়ায় কানা নদীর উল্টোপাড়ে থাকা ৫০টি পরিবার যাবতীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এক সময় কানা নদীর পাড়ে নতুন বসতি গড়ে উঠেছিল। সেও প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। তারপর প্রতিশ্রুতির পাহাড় জমেছে, কিন্তু স্থায়ী সেতু গড়ে ওঠেনি। - নিজস্ব চিত্র